ঘুমের মধ্যে পায়ের নড়াচড়া
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
অনেকেই একটি অদ্ভুত সমস্যার সম্মুখীন হন– রাতে বিছানায় যাওয়ার পরই পায়ের ভেতরে কেমন যেন অস্বস্তি, চুলকানি, পিন ফোটানো বা পিঁপড়া হাঁটার মতো অনুভূতি শুরু হয়। ফলে বারবার পা ঝাড়ামোছা বা নাড়াচাড়া করতে হয়। ঘুম আসার ঠিক আগমুহূর্তে এ সমস্যা তীব্র হয়। এর ফলে দীর্ঘ সময় অনিদ্রায় ভুগতে হয় এবং পরদিন শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম’। এটি এক ধরনের স্নায়ুরোগ এবং ঘুমের সমস্যাজনিত রোগ। সাধারণত মাঝবয়সী নারীরা এ সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন। যদিও এর সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। জানা যায়, এ রোগে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেক রোগীর পরিবারে বংশগতভাবে এই সমস্যা রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু শারীরিক জটিলতা বা অভ্যাসের কারণে এ রোগের প্রকোপ বাড়ে। যেমন– শরীরে আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যা বা পারকিনসন ডিজিজের মতো রোগের কারণে এ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেক সময় বমির ওষুধ, মানসিক অবসাদের ওষুধ বা ঠান্ডা-কাশির ওষুধ খাওয়ার ফলেও এ সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ওষুধ বন্ধ করলে সমস্যা কমে যায়। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসেও অনেকের এমন অনুভূতি হয়, যা প্রসবের পর স্বাভাবিক হয়ে যায়। যারা অতিরিক্ত মদ্যপান করেন, তাদেরও এই সিনড্রোম দেখা দিতে পারে। লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে একজন নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শুরুতেই ওষুধের শরণাপন্ন না হয়ে জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন বা পরিবর্তনশীল অভ্যাস এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হতে পারে। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করা, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, যেমন– চা-কফি পরিহার করা, ধূমপান বা মদ্যপান ত্যাগ করা এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা এ সমস্যা সমাধানে সহায়ক। পায়ের মাংসপেশিতে ম্যাসাজ করা কিংবা ঘুমানোর আগে পায়ে গরম বা ঠান্ডা সেঁক দেওয়াও বেশ আরামদায়ক হতে পারে। যারা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাদের মানসিক প্রশান্তির জন্য স্ট্রেসমুক্ত জীবনযাপন করতে হবে। প্রয়োজনে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। কারণ, অনেক সময় দুশ্চিন্তা কমলে এ অস্বস্তিও দূর হয়ে যায়। যদি এত কিছু করার পরও সমস্যার সমাধান না হয়, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন, যা স্নায়বিক অস্বস্তি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। সঠিক ও চিকিৎসার মাধ্যমে রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম দূর করা সম্ভব।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস
- বিষয় :
- ব্যথা