স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নিতে দ্বিধায় নারীরা
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:১৪
সামাজিক সংকোচ ও প্রচলিত ট্যাবুর কারণে স্তন ক্যানসার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিতে দ্বিধা করেন অনেক নারী। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার ফলাফল উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ঢাকার একটি হোটেলে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে স্তন ক্যানসারবিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠান।
‘স্তন ক্যানসার: লক্ষণ জানুন, দ্রুত শনাক্ত করুন, জীবন বাঁচান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে টোমবি লজিস্টিকস অ্যান্ড কনসালটেন্সি। সহযোগিতায় ছিল ভারতের চেন্নাইয়ের টেনামপেটে অবস্থিত অ্যাপোলো স্পেশালিটি হাসপাতাল। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালটির স্তন ক্যানসার সার্জন ডা. উষা গুপ্ত এবং মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডা. নিরঞ্জন বিজয়ারাঘবন।
আলোচনায় বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির প্রায় ৪০ জন নারী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উদ্যোক্তা, করপোরেট পেশাজীবী ও গৃহিণী। স্তন ক্যানসারের লক্ষণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, ঝুঁকি কমানোর উপায় এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা।
আয়োজকদের মতে, স্তন ক্যানসার নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও ট্যাবু নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে নারীদের জন্য সহায়ক ও উন্মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই এ সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অ্যাপোলো হাসপাতালস, চেন্নাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রাগিল রঘুনাথ বলেন, স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে নারীদের উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যানসার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। স্তনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষকে স্বাস্থ্য বিষয়ে আগাম পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে টোমবি কনসালটেন্সির সঙ্গে কাজ করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।
টোমবি লজিস্টিকস অ্যান্ড কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেবেকা সুলতানা বিন্তি স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং এ রোগ নিয়ে সামাজিক সংকোচ দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উদ্যোগটিতে সহযোগিতার জন্য অ্যাপোলো হাসপাতালকে ধন্যবাদ জানান তিনি। নারীদের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দিতে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সহযোগী পার্টনার হিসেবে ছিল জেসিআই সিগনেচার, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা রয়্যাল, টিপিবি এবং রেবকো কনসালটেশন।
স্তন ক্যানসারের লক্ষণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে উৎসাহিত করা এবং এ রোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরির আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
- বিষয় :
- স্তন ক্যান্সার