ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে করণীয়

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে করণীয়
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫ | ০৭:১৩

ডায়াবেটিস অন্তঃসত্ত্বা মা ও তাঁর অনাগত সন্তানের জীবনের ওপর বিশাল বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভপাত, গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু, একলামশিয়া, গর্ভাশয়ে পানির পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি সিজারিয়ান অপারেশনের হার বেশি হওয়ার পেছনে ডায়াবেটিসের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর ওজন বৃদ্ধি, হৃৎপিণ্ড ও কিডনির জন্মগত ত্রুটি, জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হাইপোগ্লাইসেমিয়া, খিঁচুনি, জন্ডিস, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া, লোহিত রক্তকণিকা বেড়ে যাওয়ার মতো জটিলতার জন্ম দিতে পারে মায়ের ডায়াবেটিস। এ কারণে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের গর্ভধারণের আগে অনেক বিষয়ে যত্নশীল হতে হবে।

চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে গর্ভধারণের তিন মাস আগে থেকেই রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নিতে হবে। ডায়াবেটিসের জন্য যারা ইনসুলিন নিচ্ছিলেন তাদের ইনসুলিনের ধরন বদলে ফেলতে হবে।  পাশাপাশি গর্ভধারণের তিন মাস আগে থেকে ফলিক এসিড সেবন করতে হবে সন্তানের জন্মগত ত্রুটি রোধের জন্য।

চোখের সমস্যা
গর্ভধারণের পর ডায়াবেটিক রোগীদের চোখের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে গর্ভধারণের আগে অবশ্যই ডায়াবেটিক রোগীরা তাদের চোখ পরীক্ষা করিয়ে নেবেন। চোখে জটিলতা বেশি থাকলে গর্ভধারণ করা অনুচিত। রেটিনোপ্যাথি থাকলে গর্ভধারণের পর অন্তত তিনটি পর্যায়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। এ ছাড়া সন্তান প্রসবের তিন মাস পর চোখের পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। 

কিডনি সমস্যা
গর্ভকালীন ডায়াবেটিক রোগীর কিডনি জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।  তাদের মূত্রের সঙ্গে অ্যালবুমিন বা আমিষ বেরিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া তাদের কিডনি পরিস্রাবণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।  

আনুষঙ্গিক রোগ নিয়ন্ত্রণ
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী অনেকেরই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে। গর্ভধারণের আগে রক্তচাপ অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সব ধরনের ওষুধ এ সময় নিরাপদ নয়। যাদের টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের গর্ভধারণের আগে অবশ্যই থাইরয়েডের স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে নিতে হবে। এই হরমোনের ঘাটতি মা ও শিশুর ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। 

লেখক: কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ, মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট

আরও পড়ুন

×