ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে মেসির ভাস্কর্য

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে মেসির ভাস্কর্য
×

দড়ি বাঁধা অবস্থায় মেসির ভাস্কর্য। ছবি: সমকাল/শুভজিৎ পুততুন্ড

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ | ১৬:৫০ | আপডেট: ২৯ মে ২০২৬ | ১৭:১৭

গত বছর ভারত সফরে এসে কলকাতার লেকটাউনে নিজের একটি ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন। 

৪৪ ফুট (প্রায় ২১ মিটার) উঁচু বিশ্বকাপ হাতে মেসির সোনালি রঙের এই ভাস্কর্যটি বাতাসে দুলতে থাকায় জননিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র ৫ মাস আগে তৈরি হওয়া বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মেসির এই ভাস্কর্যটি বর্তমানে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। 

লেকটাউন এলাকার বিজেপি বিধায়ক শরদ্বত মুখার্জি জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রকৌশলীরা ভাস্কর্যটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।  

কবে ভাস্কর্যটি সরানো হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ দ্রুত এটি অপসারণের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন শরদ্বত মুখার্জি। ভাস্কর্যটি পরে অন্য কোথাও পুনঃস্থাপন করা হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সরজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে শ্রমিকরা দড়ি ব্যবহার করে ভাস্কর্যটিকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছেন। ভাস্কর্যের কোমরের অংশ থেকে মোটা নাইলনের দড়ি দিয়ে চারদিকে থাকা মজবুত স্ট্রাকচারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। 

ভাস্কর্যটির সামনের অংশ বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ভাস্কর্যের সামনে থাকা যে বেঞ্চে এত দিন লোকজন বসতেন, সেখানেও এখন কাউকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। পার্কের অংশেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকে। ভাস্কর্যের পেছনে থাকা সার্ভিস রোডটিও আপাতত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কোনো রকমের দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই জন্যই এত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, মেসির ভাস্কর্যটি হাওয়ায় দুলছে, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। পূর্ত দপ্তরের জায়গায় বিনা অনুমতিতে এটি তৈরি হয়েছিল। ভাস্কর্যটি অক্ষত রেখে অন্য পার্কে সরানোর নির্দেশ দিয়েছি এবং পেডেস্টালটি ভাঙা হবে। 

কয়েকটি সূত্র মারফত খবর পাওয়া গেছে, এখনই ভাস্কর্যের পাশের অংশ ভাঙা হবে না। প্রাথমিকভাবে ভাস্কর্যটির পেডেস্টাল আলাদা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে ভাস্কর্যটিকে পুরোপুরি মেরামত করে যথাযথ জায়গায় বা পার্কে সরিয়ে ফেলা হতে পারে। গোটা বিষয়ে কড়া নজর রাখছে রাজ্য সরকার। 

ভাস্কর্যটি অক্ষত অবস্থায় নামিয়ে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা পূর্ত দপ্তরের (পিডব্লিউডি) জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত বিশাল ভাস্কর্য নামাতে একাধিক বড় ক্রেন প্রয়োজন, যার জন্য লেকটাউনের মতো ব্যস্ত এলাকায় যান চলাচল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হতে পারে। ভাস্কর্যের পাশেই রয়েছে একটি সাবওয়ে। তার ওপরে এত ভারী ক্রেন রাখা কাঠামোগতভাবে নিরাপদ কি না, তা নিয়েও প্রকৌশলীদের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে।  

আরও পড়ুন

×