বিশ্বের সুখী মানুষের তালিকায় উগান্ডার নাগরিকরাও আছেন
ছবি: আনাদোলু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২২ | ১১:৩৩ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২২ | ১১:৩৩
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনি ২০১৫ সালে দেশটির যুদ্ধবিধ্বস্ত উত্তরাঞ্চলীয় গুলু সফর করেছিলেন। তখন সেখানকার বাসিন্দারা প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে একটি গান রচনা করে। পরে প্রেসিডেন্ট সেখানে গেলে সমবেতভাবে সেই গান গেয়ে স্বাগত জানায় বাসিন্দারা। গানের কথাগুলো ছিল এমন, ‘প্রিয় প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি, গুলুতে আপনাকে পেয়ে আমরা খুশি। আমরা দারিদ্রের মাঝে বাস করি, এলআরএ (লডর্স রেজিস্ট্যান্স আর্মি) বিদ্রোহীদের দ্বারা খুন হই, কিন্তু একইভাবে আমরা খুব সুখী।’
২০১৫ সাল থেকে উগান্ডাকে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলো তাদের র্যাং কিংয়ে বসবাসের জন্য আফ্রিকার অন্যতম ভালো স্থান এবং বিশ্বব্যাপী সুখী মানুষের দেশের তালিকায় স্থান দিচ্ছে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যানালাইটিকস অ্যান্ড অ্যাডভাইসরি কোম্পানি গ্যালাপ আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলিয়া, বুরকিনা ফাসো, ক্যামেরুন, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, ম্যাসিডোনিয়া, দ্য তার্কিশ রিপাবলিক অব নর্দান সাইপ্রাস এবং তাজিকিস্তানের সঙ্গে উগান্ডাকে রেখে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ইনডেক্সে ৬৪ তম স্কোর দেয়। একই বছর বসবাসের জন্য ভালো জায়গা এবং সুখী মানুষের ইনডেক্সে উগান্ডা বৈশ্বিকভাবে ৯০তম ও আফ্রিকায় ২৩ তম স্থান পায়। খবর আনাদোলু।
একইভাবে ২০২১ সালের মার্চে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশন নেটওয়ার্কের প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস’ প্রতিবেদনে পূর্ব আফ্রিকার সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় উগান্ডাকে স্থান দেওয়া হয়। আর বৈশ্বিকভাবে উগান্ডা ৮৩ তম স্থানে অবস্থান করে। একই অঞ্চলের কেনিয়া ৮৬তম এবং তানজানিয়া ৯৪ তম অবস্থানে ছিল।
গ্যালাপ বলেছে, তাদের গবেষকরা মানুষের জীবনের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটি দিকই বিবেচনায় নেয়। যেমন যাপিত জীবনে অবসর ও বিশ্রাম, মানসিক চাপ, শারীরিক ব্যথা, রাগ, উদ্বিগ্নতা এবং দুঃখকে বিবেচনায় নিয়ে তারা প্রতিবেদন তৈরি করে।
পিটার ওকেলো নামে উত্তর উগান্ডার এক অবসরপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদ আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, আমরা স্বাভাবিকভাবে সুখী মানুষ। এমনকি আমরা যখন খুব কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাই, তখনো আমরা সুখী থাকি। কারণ, সম্ভবত সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে তেমন করেই সৃষ্টি করেছেন।
তিনি বলেন, এমনকি বিদ্রোহী খ্রিস্টান উগ্রপন্থি সংগঠন লডর্স রেজিস্ট্যান্স আর্মি যখন ১৯৯০ সালের শেষের দিকে এবং ২০০০ সালের গোড়ার দিকে উত্তরাঞ্চলে মানুষকে হত্যা করতো, অঞ্চলটির অধিকাংশ মানুষ যখন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল তখনো তারা সন্ধ্যাবেলা চুল্লির পাশে জড়ো হয়ে গান গাইতো, নাচতো।
১৯০৭ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল উগান্ডা সফরে গিয়ে দেশটির অনুকূল জলবায়ু আর প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য দেখে মুগ্ধ হন। এই ব্যাপারে রবার্ট কিসিতু নামে ইতিহাসের এক স্কুলশিক্ষক আনাদোলুকে বলেন, চার্চিল শুধু শুধু তো আর উগান্ডাকে ‘আফ্রিকার মুক্তা’ বলে অভিহিত করেননি।
তিনি বলেন, এই মহাদেশের ভালো পর্যটন এলাকার মধ্যে আমাদেরটা সবচেয়ে আকর্ষণীয়। আমাদের প্রচুর পানি এবং উর্বর মাটি আছে। সার ছাড়াই আমরা সব ধরনের খাদ্যশস্য ফলাতে পারি। প্রকৃতি উগান্ডার ওপর নানা আশীর্বাদ করেছে। এটা বিস্ময়ের কিছু নয় যে, উগান্ডার অধিকাংশ নাগরিক সুখী।
উগান্ডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রবিনাহ নব্বাঞ্জা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির ভালো নেতৃত্বের কারণে উগান্ডার বেশিরভাগ মানুষ সুখী।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি ৩৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন। উগান্ডার মানুষ অনেককিছু অর্জন করেছে। সারাদেশে শান্তি বিরাজ করছে। মানুষজন দিন বা রাতে অবাধে যেকোনো স্থানে যাতায়াত করতে পারে। উগান্ডার অধিকাংশ মানুষ ভালো নেতৃত্বের কারণে সুখী।
উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপো গত ৮ মার্চে নারী দিবসে রাজধানী কাম্পালায় দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, সরকার সব নাগরিককে ‘স্বাধীনতা’ দিয়েছে বলে উগান্ডাবাসী সুখী জীবন যাপন করে।
ড্যাভিড মুসেনজে নামে স্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, বিশ্বের গুটিকয়েক দেশের মধ্যে উগান্ডা একটি, যেখানে সয়াবিন এবং ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসল বছরে দুইবার চাষ করা যায়।
তিনি বলেন, উগান্ডা হলো পূর্ব আফ্রিকার খাদ্য ঝুড়ি। দেশটি সারা বছর ভুট্টা, সয়াবিন, চীনাবাদাম এবং কলা প্রতিবেশী সবগুলো দেশে রপ্তানি করে। আমাদের অনেক জলাশয় আছে, যেখানে মানুষজন অবাধে যেতে পারেন এবং মাছ শিকার করতে পারেন। আমাদের অনেক বন এবং বেশ কয়েকটি ন্যাশনাল গেম পার্ক আছে।
মুসেনজের বক্তব্যকে সমর্থন করে দেশটির কৃষিমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক তুম্বেবেজে বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং ভালো মাটির কারণে উগান্ডাবাসী সন্তোষ্ট। যা নাগরিকদের খাদ্য নিরপত্তা দেয়।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি বলেছেন, সুখী হওয়া ভালো। তবে কিছু অর্থ উন্নয়নের জন্য সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাও উচিত।
