দুঃস্বপ্নময় করোনাতেও জেগে উঠেছে যেসব আশা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২০ | ০২:৫২ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০২০ | ০৪:৩১
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গোটা বিশ্বের মানুষ এখন একটা অন্ধকার সময় পার করছে। সংক্রমণের পাশাপাশি এই ভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন শহর। এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। মানুষজন আলাদা থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এসব উদ্বেগজনক সংবাদের মধ্যেও কিছু আশার খবরও জানা যাচ্ছে।
দূষণ কমছে
করোনাভাইরাসের প্রভাবে লকডাউনের কারণে বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্যভাবে দূষণের পরিমাণ কমে গেছে। চীন এবং উত্তর ইতালি দুটি দেশই নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডে নির্গমনের ক্ষেত্রে রেকর্ড করেছিল। লকডাউনের কারণে এই দুই দেশে গাড়ি চলাচল, শিল্প কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বায়ুদূষণের পরিমাণ কমে গেছে।
নিউইয়র্কের গবেষকরা জানিয়েছেন, লকডাউনের কারণে গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গত বছরের তুলনায় শতকরা ৫০ ভাগ কমে গেছে।
বিমান সংস্থাগুলো অনেক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া গোটা বিশ্বে অনেক মানুষ লকডাউনের এই সময় বাড়ি থেকে কাজ করছেন। আগামীতে এই পথ অনেকেই অনুসরণ করে বাড়িতে বসেই কাজ করতে পারবেন।
ক্যানেলগুলো পরিষ্কার হয়ে উঠছে
লকডাউনের কারণে ইতালির ভেনিসের বাসিন্দারা নগরীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিখ্যাত ‘ভেনিস ক্যানেলের’ পানির গুণগত উন্নতি লক্ষ্য করেছেন।
এই ক্যানেলের নোংরা পানি এতটাই পরিষ্কার হয়েছে যে পানির নিচে মাছ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।
মানবতা
করোনাভাইরাস আতঙ্কে টয়লেট রোল এবং খাবারের টিন কেনা নিয়ে অনেক মারামারির গল্প জানা গেছে। তবে এই ভাইরাসের কারণে মানবতাও অনেক চিত্র দেখা গেছে।
২ জন নিউইয়র্কবাসী ৭২ ঘন্টার মধ্যে ১ হাজার ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী জড়ো করেছেন বয়স্ক ও ছিন্নমুল মানুষদের বাড়িতে খাবার আর ওষুধ পৌছে দেওয়ার জন্য।
ফেসবুক জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের কয়েক হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্তদের সহায়তার জন্য স্থানীয়ভাবে দল গঠন করেছেন। কানাডায়ও একই ধরনের দল গঠন করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় সুপারমার্কেটগুলিতে বয়স্কদের জন্য একটি বিশেষ ‘বয়স্ক ঘণ্টা’ চালু করেছে। এই সময়ের মধ্যে বয়স্ক ক্রেতা এবং প্রতিবন্ধীরা নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করার সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়াও যার যার অবস্থান থেকে মানুষ অর্থ অনুদান করছে। অনেকে বিচ্ছিন্ন থাকা প্রবীণদের সুস্থ থাকার রেসিপি, ব্যায়ামের পরামর্শও দিচ্ছেন।
একাত্মতা
ব্যস্ত জীবন থেকে হঠাৎ করেই মানুষের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঘরের মধ্যে থাকা মোটেও সহজ কাজ নয়। ভাইরাসটি সবাইকে প্রভাবিত করার কারণে এটি বিশ্বের অনেক সম্প্রদায়কে আরও কাছাকাছি এনেছে।
ইতালি লকডাইন করার পর মানুষজন যার যার বারান্দায় বসে একসঙ্গে গান করেছেন।
দক্ষিণ স্পেনের একজন শরীরচর্চা প্রশিক্ষক একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের মাঝখানের নিচু ছাদ থেকে একটি অনুশীলন ক্লাস পরিচালনা করেছিলেন। এতে বিচ্ছিন্ন থাকা অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা নিজ নিজ বারান্দা থেকে ওই অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন।
সময় পেয়ে অনেকে ফোন আর ভিডিও কলের মাধ্যমে বন্ধু এবং প্রিয়জনদের সাথে আবারও যোগাযোগ শুরু করেছেন। অনেকে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে বন্ধুদের গ্রুপ তৈরি করে ক্লাবিং বা পাব সেশনের আয়োজন করেছেন।
করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্য এবং সেবার ক্ষেত্রে যারা ভূমিকা রাখছেন তাদের গুরুত্বও ফুটে উঠেছে। কয়েক হাজার ইউরোপীয়ান করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য চিকিৎসক এবং নার্সদের প্রশংসা করে নিজেদের বারান্দা ও জানালা দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলেছেন।
সৃজনশীলতা বেড়েছে
লাখ লাখ লোক মানুষ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কারণে অনেকে সৃজনশীল হওয়ার সুযোগ ব্যবহার করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা তাদের নতুন শখের কথা জানাচ্ছেন। এর মধ্যে বই পড়া, খাবার তৈরি করা, ছবি আঁকা অন্যতম।
ওয়াশিংটনের পাবলিক লাইব্রেরি হ'ল ভার্চুয়াল বইয়ের ক্লাব চলু করেছে। অন্যদিকে ইতালীয় অভিনেতা শেফ ম্যাসিমো বোতুরা রান্নাঘর কোয়ারানটাইন নামে একটি ইনস্টাগ্রাম সিরিজ চালু করেছেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন রান্নার রেসিপি শিখাচ্ছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির একজন আর্ট শিক্ষক স্কুল ছেড়ে থাকা শিশুদের ঘরে বসে সৃজনশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা জাগাতে লাইভ স্ট্রিমিং ক্লাস করছেন।
কেউ কেউ ঘরে থাকাকালীন সময়ে শিশু ও বয়স্কদের কিভাবে যত্ন নেবেন সেটা জানাচ্ছেন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে।
- বিষয় :
- আন্তর্জাতিক
- অন্যান্য
