ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

করোনাযুদ্ধ

আমরা একদমই ভালো নেই

আমরা একদমই ভালো নেই
×

ইতালির রোম শহরের একটি এলাকা। যেন কোথাও কেউ নেই - সমকাল

ইউসুফ আলী, রোম থেকে

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২০ | ১৩:২৪

প্রাণঘাতী করোনায় বিধ্বস্ত ইতালিতে প্রায় দুই লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ভালো নেই। দেশটিতে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ গৃহবন্দি। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসীরাও। বাইরে বেরুলেই জেল-জরিমানার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা থাকা-খাওয়ার ব্যয় নির্বাহ নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। এরই মধ্যে এক বাংলাদেশি করোনায় মারা যাওয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।
অর্থনৈতিকভাবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশ ইতালি এখন কার্যত মৃত্যুপুরী। পর্যটকশূন্য পুরো দেশ। কোথাও নেই কোলাহল। ফার্মেসি ও সুপার মার্কেট ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।
পুরো দেশ 'রেড জোন'-এর মধ্যে রয়েছে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। গত শনিবার সরকার সবকিছু বন্ধের সময় বাড়িয়েছে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশের পুরো কাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম। অর্থনৈতিক কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। এক অনিশ্চিত সংকটের দিকে এগোচ্ছে ইতালি। ইতালীয়রা বলছেন, তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েও এমন সংকট দেখেননি।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনেকটা ইতালির সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছেন। আশির দশক থেকে ইতালিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পদচারণা শুরু। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যায় যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ইতালির বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে সখ্য। প্রবাসীরা ইতালিকে 'সেকেন্ড হোম' হিসেবে বিবেচনা করেন। তাদের রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশ যেমন লাভবান হয়, তেমনি একজন প্রবাসীর উপার্জনের মাধ্যমে নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজনসহ অনেকেই উপকৃত হয়ে থাকেন।
ইতালিতে এপ্রিলে সাধারণত গ্রীষ্ফ্মকাল শুরু হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য চলে পুরোদমে। কর্মসংস্থানও বাড়ে। তবে এবার করোনার ছোবলে ইতালিতে ভিন্ন চিত্র। কার্যত অবরুদ্ধ দেশ। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এতে আতঙ্কিত। করোনার হানা সবকিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে। কর্মজীবী বাংলাদেশিরা নিজের মাসিক খরচের টাকা হাতে রেখে সাধারণত মাসের প্রথম দিকেই বাকি অর্থ দেশে পাঠান। চলতি মাসেও একই অবস্থা ছিল। তবে দেশব্যাপী রেড জোন ঘোষণা এবং সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সব প্রবাসী। সবাই এখন গৃহবন্দি। দোকান বন্ধ, ব্যবসা নেই। তবে বাড়ি ভাড়া, দোকান ভাড়া দিতেই হবে। সঙ্গে রয়েছে পারিবারিক ব্যয়, ব্যক্তিগত খরচ ও দেশে অর্থ পাঠানোর চিন্তা। সব মিলিয়ে উদ্বিগ্ন ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
ইতালিতে ৮ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত বলে খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার মিলান শহরে মারা গেছেন এক বাংলাদেশি। এ ঘটনায় প্রবাসী কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রোমে থাকেন বাংলাদেশের আরেফিন সিদ্দিক। তিনি সমকালকে বলেন, 'সারাদিন বাসায় সময় কাটাচ্ছি। শুধু জরুরি কেনাকাটার জন্য বাইরে বের হচ্ছি। কর্মস্থল বন্ধ প্রায় দু'সপ্তাহ। পর্যটকনির্ভর রোম এখন পর্যটকশূন্য। পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
আরেক ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, '৩০ বছর ইতালিতে বসবাস করছি। এমন সংকটের মুখোমুখি কখনও হইনি। সবকিছু থমকে গেছে। ভেবেছিলাম, দুই সপ্তাহের মধ্যে সব ঠিক হয়ে আসবে। তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি দেখছি। ব্যবসায়িকভাবে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছি।'
প্রবাসীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইতালি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবাল। সমকালকে তিনি বলেন, 'মানসিকভাবে ভালো নেই। সবাই আতঙ্কিত। প্রত্যেক শহরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি প্রবাসীদের পাশে থাকার। নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি যাতে কোনো প্রবাসী সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।' তিনি সব প্রবাসীকে ইতালি সরকার ঘোষিত নিয়ম-কানুন সঠিকভাবে মেনে চলা এবং সার্বক্ষণিক পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

×