বিশ্ব পরিস্থিতি
আক্রান্তের অর্ধেক ইউরোপের
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাসের হানায় লণ্ডভণ্ড ইউরোপ মহাদেশে এ রোগে মৃত্যু এক লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশ্বের মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশই ঘটেছে এ মহাদেশে। সারাবিশ্বে কভিড-১৯ রোগে যত লোক আক্রান্ত হয়েছেন, তার অর্ধেকই ইউরোপের। এদিকে করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে বর্তমানে বিশ্বের ৪৫০ কোটি বা মোট জনসংখ্যার ৫৮ শতাংশই লকডাউনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
করোনায় গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ইউরোপে মারা গেছেন ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ। দিনের পুরো চিত্র পাওয়া গেলে মৃত্যু এক লাখের কাছাকাছি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ মহাদেশে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১১ লাখ মানুষ। প্রতিনিয়তই এ সংখ্যা বাড়ছে।
ওয়ার্ল্ডওমিটারের হিসাবে, গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২২ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৯ জন। আক্রান্তদের মধ্য সুস্থ হয়েছেন পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার জন। মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার ৮১০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ৯৪ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৫১২ জন।
করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। গতকাল পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৭৮ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ছয় লাখ ৮৬ হাজার। ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। এখানে মারা গেছেন ২২ হাজার ৭৪৫ জন। এরপর রয়েছে স্পেন। সেখানে মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ৪৭৮ জনের। স্পেনে গতকাল মারা গেছেন ৫৮৫ জন। ফ্রান্সে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মারা গেছেন ১৭ হাজার ৯২০ জন। যুক্তরাজ্যে গতকাল মারা গেছেন ৮৪৭ জন। এ নিয়ে সেখানে মোট মৃত্যু হলো ১৪ হাজার ৫৭৬ জনের। দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসছে।
জার্মানিতে করোনায় এক লাখ ৩৮ হাজার ৪৫৬ জন আক্রান্ত এবং চার হাজার ১৯৩ জনের মৃত্যু হলেও দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেন্স স্পান বলেছেন, তার দেশে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ কারণে তারা লকডাউন শিথিল করে উৎপাদনে যেতে চান। রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন ২৭৩ জন।
করোনাভাইরাস মহামারির উৎপত্তিস্থল চীনের উহানে মৃতের সংখ্যা পর্যালোচনায় বেড়ে গেছে ৫০ শতাংশ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তথ্য পর্যালোচনায় মৃতের তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও এক হাজার ২৯০ জনের নাম। এ পর্যালোচনার ফলে চীনে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে চার হাজার ৬৩২, যা আগের সংখ্যার চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি। চীন এমন সময় এ তথ্য প্রকাশ করল, যখন দেশটির কমিউনিস্ট সরকার আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উহানের হানকাউ ক্রিমেশন সেন্টারে (মৃতদেহ পোড়ানোর কেন্দ্র) প্রতিদিন ১৯ ঘণ্টা ধরে মৃতদেহ পোড়ানো হয়েছে। তাতে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ দিনে শুধু উহানেই ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে ধারণা দেওয়া হয়। চীন সরকার স্বজনদের লাশ দেয়নি, দিয়েছে কফিনবন্দি ভস্ম। তাতে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও চীনে কলকারখানা বন্ধ থাকায় চার দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এবারই প্রথম বছরের শুরুর তিন মাসে অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে চীনের জিডিপি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে মৃতের সংখ্যাও। ভারত সরকারের একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছতে পারে দেশ। লকডাউনের কারণে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। ভারতে গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৮৮৫ এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৫২ জনের। ভারতে নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ঘনবসতিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বসবাস এই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে।
দুবাইয়ে কারফিউর মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। তুরস্কে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছেন মোট এক হাজার ৭৬৯ জন। করোনায় ইতালির প্রায় ১৭ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির মোট আক্রান্তের ১০ ভাগই স্বাস্থ্যকর্মীরা। ইরানে মৃত্যু দিনদিনই কমছে। গতকাল দেশটিতে মারা গেছেন ৮৯ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে চার হাজার ৯৫৮ জনের।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, করোনা ভাইরাসের পরবর্তী কেন্দ্রস্থল হতে পারে আফ্রিকা। আগামী তিন থেকে ছয় মাসে দরিদ্র মহাদেশে এক কোটি লোক আক্রান্ত হতে পারেন। মারা যেতে পারেন তিন লাখ মানুষ। তিন কোটি মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়তে পারেন। গত এক সপ্তাহে এ মহাদেশে সংক্রমণ দ্রুত বেড়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার আর মৃত্যু হয়েছে এক হাজার লোকের।
করোনার ধাক্কা সামলাতে পাকিস্তান সরকারকে ১৫০ কোটি ডলার জরুরি সহায়তা দিয়েছে আইএমএফ। অস্ট্রেলিয়া সরকার বলেছে, সেখানে করোনা রোধে আরোপ করা কিছু কড়াকড়ি এক বছর পর্যন্ত বহাল রাখা হতে পারে। চীনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রবীণ লোকদের চেয়েও করোনায় বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঘন ঘন ধূমপায়ীরা। অধূমপায়ীদের চেয়ে ধূমপায়ীদের ঝুঁকি ১৪ গুণ বেশি। সূত্র :বিবিসি, আলজাজিরা, এএফপি ও রয়টার্স
