লকডাউনে পরিবারের খাদ্য যোগানে ব্যর্থ, আত্মহত্যা শ্রমিকের
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:৩৪ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:৩৯
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইসে (কোভিড-১৯) পাল্টে গেছে মানুষের জীবন। কোনো প্রতিষেধক না থাকায় বিশ্বজুড়ে লকডাউন প্রথাই একমাত্র ভরসা হিসেবে কাজ করছে। তবে লকডাউনের ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায় অথবা শ্রমিকের কাজ করে অর্থ উপার্জন করতেন তাদের এখন আয়ের সব পথই বন্ধ। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে এসব মানুষ এখন অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। ঠিক এমন অবস্থায় পরিবারের খাদ্য যোগান দিতে না পেরে দুশ্চিন্তায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক শ্রমিক।
ভারতের বিহারে সম্প্রতি এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বিহারের গুরুগ্রামে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন ছবু মণ্ডল নামের ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি ভারতে লকডাউন আইন কড়াকড় করা হলে তিনি ও তার পরিবার চরম খাদ্য সংকটে পড়ে। পরিবারের খাদ্য যোগানের দুশ্চিন্তায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আত্মহত্যা করেন তিনি।
নিউজ এইট্টিন এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আত্মহত্যার আগে নিজের মোবাইলটি বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের জন্য সাময়িক কিছু খাদ্য সামগ্রী কিনে দেন ছবু মণ্ডল। পরিবারে বাবা, মা, স্ত্রী ছাড়াও চার সন্তান ছিল তার। সবথেকে ছোট সন্তানের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। লকডাউনের কারণে তার কাজকর্ম সবই বন্ধ হয়ে যায়। জমানো টাকাও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়। বুধবার থেকে অভুক্ত ছিল তার পরিবার। শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে নিজের মোবাইল ফোনটি আড়াই হাজার রুপিতে বিক্রি করে দেন ওই ব্যক্তি। সেই টাকায় নিজের পরিবারের জন্য কিছু খাদ্য সামগ্রী এবং একটি পোর্টেবল ফ্যান কেনেন ওই শ্রমিক। তারপর সন্ধ্যায় নিজের ঘরের পিছনে একটি জায়গায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
ওই পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে ওই শ্রমিকের অন্তিম সংস্কার করার মতো অর্থও তাদের হাতে ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীদের সাহায্যে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
ছবু মণ্ডলের স্ত্রী জানান, লকডাউনের কারণে খুবই চিন্তিত ছিলেন তার স্বামী। এই পরিস্থিতিতে তাদের একমাত্র ভরসা ছিল সরকারি রেশন। কিন্তু তাও প্রতিদিন মিলছিল না। ফলে বাধ্য হয়েই চরম সিদ্ধান্ত নেন ওই শ্রমিক।
