দক্ষিণ সুদানে করোনা প্রস্তুতির ঘাটতি
মানুষ কোটির বেশি, ভেন্টিলেটর আছে মাত্র চারটি
ছবি: দ্য আরব
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:২৪ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:৩৮
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কোন প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার হয়নি। এই ভাইরাসের মূল উপসর্গ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট। তবুও যেসব করোনা রোগীর সংক্রমণ মারাত্মক তাদের জীবনরক্ষায় খুবই কার্যকর এক যন্ত্র ভেন্টিলেটর। সহজভাবে বললে, রোগীর ফুসফুস যদি কাজ না করে তাহলে রোগীর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের কাজটা ভেন্টিলেটর করে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রায় ৮০% করোনাভাইরাস রোগী হাসপাতালের চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। অথচ আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে কোটির বেশি মানুষের বিপরীতে এই জীবনরক্ষাকারী ভেন্টিলেটর আছে মাত্র ৪টি।
দেশটির মোট জনসংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ। দেশটিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালক করেন পাঁচজন। অথচ পুরো দেশে ভেন্টিলেটর আছে মাত্র চারটি। এমন অবস্থা আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় সব দেশে। এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, নতুন করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এই মহাদেশে মৃতের সংখ্যা লাখ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, ইউরোপ–আমেরিকার পর আফ্রিকা হতে পারে করোনাভাইরাসের নতুন উপকেন্দ্র। এই অঞ্চলে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকার দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী নয়। ফলে এসব দেশের স্বাস্থ্যকাঠামোও উন্নত নয়। নতুন করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারে এখন আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো ভুগছে প্রচণ্ডভাবে। আফ্রিকার দেশগুলোতে ভাইরাসটির বিস্তার সেই তুলনায় এখনো কম। কিন্তু এর বিস্তার মারাত্মক হওয়ার আশঙ্কা এখনো আছে। সে ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটরসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবার উপকরণের অভাব আফ্রিকার দেশগুলোকে ভোগাবে। শুধু ভেন্টিলেটর নয়, এই মহাদেশের দেশগুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও হাত ধোয়ার সাবানেরও অভাব আছে। অথচ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এগুলো খুবই প্রয়োজন।
