চীনে মন্ত্রী-কর্মকর্তাদের অন্তর্ধান ঘিরে রহস্য
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০
চীনে একের পর এক অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রী থেকে শুরু করে শীর্ষ কর্মকর্তারা। অন্তর্ধানের তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা এক সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশ্বস্ত ও পছন্দের পাত্র ছিলেন। তবে এখন তাঁরা অদৃশ্য। গত কয়েক মাস ধরেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিখোঁজ হয়েছেন। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জিনপিং শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা চাউর হয়েছে। খবর বিবিসির।
নিখোঁজদের এই তালিকায় সবশেষ যুক্ত হন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফু। তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে নেই। দেশটির সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) জন্য অস্ত্র সংগ্রহের তদারকি করতেন লি। এখন সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। তিনি তদন্তকারীদের হেফাজতে (আটক) রয়েছেন। রকেট বাহিনীর দুই শীর্ষ কর্মকর্তা, পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী সামরিক বাহিনী ও সামরিক আদালতের বিচারককে অপসারণের কয়েক সপ্তাহ পরই লি ‘নিখোঁজ’ হন। সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে এমন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও তদন্ত হচ্ছে– এই গুজব এখন নতুন করে ছড়িয়েছে। তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। মূল কথা হলো, পিএলএতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে চীন সরকার। গত জুলাই মাসে জরুরি নির্দেশনা জারি করে। জিনপিং গত এপ্রিল থেকে সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত পাঁচবার পরিদর্শন করেছেন।
সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষণা ফেলো জেমস চার বলেন, চীনের সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতির খবর নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে ১৯৭০-এর দশকে চীন তার অর্থনীতিকে উদারীকরণ শুরুর পর থেকেই এটি শুরু হয়। প্রতি বছর চীন সামরিক খাতে এক ট্রিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি ব্যয় করে। ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র জাতীয় নিরাপত্তার কারণে পুরোপুরি প্রকাশ করা হয় না। এই স্বচ্ছতার অভাব চীনের একদলীয় কর্তৃত্বের কারণে আরও জটিল হয়েছে। যদিও জিনপিং সশস্ত্র বাহিনীতে দুর্নীতি কমাতে এবং এর সুনাম কিছুটা পুনরুদ্ধারে সুফল পেয়েছেন। জেমস আরও বলেন, সিসিপি সরকার সঠিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে না তুললে এই ধরনের অপসারণ ঘটতেই থাকবে।
জেনারেল লির নিখোঁজ হওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংয়ের ঘটনার মতোই। কিনকে গত জুলাইয়ে অপসারণ করা হয়। চলতি সপ্তাহে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কিনের বিরুদ্ধে কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ওই সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এক শিশুর জন্ম হয়। এ বিষয়ে চীনের বিশ্লেষক বিল বিশপ বলেন, সম্পর্কের বিষয়টি চীনা কমিউনিস্ট পার্টিতে অযোগ্যতা নয়। তবে এমন কারও সঙ্গে সম্পর্ক থাকা, যার বিদেশি গোয়েন্দা সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ রয়েছে এবং আপনার মূল ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীর একটি সন্তান জন্ম দেওয়া ভাবনার বিষয়।
একের পর এক মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়াকে জিনপিংয়ের নেতৃত্বে অস্থিরতার লক্ষণ বলেও মনে করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জেনারেল লি এবং কিন– শুধু মন্ত্রীই ছিলেন না, বরং স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে আরও উচ্চপদে ছিলেন।
তাঁরা জিনপিংয়ের আস্থাভাজন লোকও ছিলেন। তাদের আকস্মিক পতন তাই নানা জল্পনা উস্কে দিচ্ছে। এদিকে, চীন সফর করছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। তিনি পূর্ব চীনের শহর হ্যাংজুতে পৌঁছান বৃহস্পতিবার। ২০০৪ সালের পর এটি তাঁর প্রথম চীন সফর। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় থাকা সিরিয়ার কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা দূর করতে তাঁর সবশেষ প্রচেষ্টা এটি।
