ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

মানুষের করোনা শনাক্ত করবে কুকুর

মানুষের করোনা শনাক্ত করবে কুকুর
×

ছবি: লাইভসাইন্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২০ | ০৫:০৭

এতোদিন কুকুর নিজের প্রখর ঘ্রাণশক্তি কাজে লাগিয়ে অপরাধীকে শনাক্ত করেছে। এখন থেকে মানুষের দেহে করোনার সংক্রমণও শনাক্ত করবে পরীক্ষিত এই প্রাণিটি।

অবাক করার বিষয় হলেও কুকুরকে তেমনই প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। যাতে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করে আরও দ্রুত ও সহজেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করা যায়। এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া ভেটেরিনারি গবেষকরা। খবর লাইভসাইন্সের

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তে আবিষ্কার হয়েছে টেস্টিং কিট। তবে যেভাবে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে প্রয়োজনের তুলনায় টেস্টিং কিটের রয়েছে চরম অপ্রতুলতা। দেশে দেশে টেস্টিং কিটের অপ্রতুলতায় সময় মতো আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্তের অভাবে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। এমন পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা কুকুরকে ট্রেনিং দিচ্ছেন, যাতে কুকুর তার ঘ্রাণশক্তি কাজে লাগিয়ে কেউ করোনা আক্রান্ত হয়েছে কিনা, তা শনাক্ত করতে পারে।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ভেটেরিনারি মেডিসিনের (পেন ভেট) গবেষকরা বলছেন, কুকুরগুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্যান্য রোগের মতো কোভিড-১৯ রোগীদের শনাক্ত করা যেতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, কুকুর তার ঘ্রাণশক্তি কাজে লাগিয়ে শুধু যে অপরাধী শনাক্ত করতে পারে, তাই নয়। প্রশিক্ষিত কুকুর এর আগে ম্যালেরিয়া, ক্যান্সার, পার্কিনসন্সে আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। ১৯৮০ সালের দিকেই ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী শনাক্তে সফল হয়েছিল প্রশিক্ষিত কুকুর। মূলত, করোনা আক্রান্ত রোগীর শরীরের গন্ধের ব্যাপারে কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কারণ শ্বাসতন্ত্রের রোগ সাধারণত মানুষের শরীরের গন্ধ পরিবর্তন করে থাকে।

এ বিষয়ে পেন ভেটের পরিচালক সিনথিয়া ওটো বলেন, মানুষের রক্ত, লালা, মুত্র কিংবা নিশ্বাসের সঙ্গে নানা ধরণের গন্ধ থাকে। যা ঘ্রাণের মাধ্যমেই আলাদা বা শনাক্ত করা যায়। মানুষ সাধারণত ৬০ লাখ আলাদা ঘ্রাণ পেয়ে থাকে। আর কুকুর সেক্ষেত্রে শনাক্ত করতে পারে ৩ কোটি ধরণের ঘ্রাণ।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য, কুকুরকে এমনভাবে ট্রেনিং দেওয়া, যাতে তারা করোনা রোগী এবং পাশাপাশি করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় থাকা রোগীদেরও চিহ্নিত করতে পারে। কুকুরের ঘ্রাণ শনাক্তের শক্তি কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে যাতে করোনার সংক্রমণ হ্রাস করা যায়, সে লক্ষ্যেই আমাদের প্রচেষ্টা।

গবেষকরা জানান, এরইমধ্যে আটটি কুকুরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। তিন সপ্তাহ তাদের প্রশিক্ষণ চলবে। প্রাথমিকভাবে লালা, কফ ও মূত্রের নমুনা নিয়ে প্রশিক্ষণ চলছে।

এদিকে, মানুষের করোনা শনাক্ত করতে গিয়ে কুকুরও আক্রান্ত হবে কি-না, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কারণ হংকংয়ে কয়েকদিন আগে একটি কুকুরের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, আক্রান্ত মালিক থেকেই কুকুরটির দেহে সংক্রমিত হয়েছিল করোনা ভাইরাস। করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছিল চিড়িয়াখানার বাঘের দেহেও।

আরও পড়ুন

×