ইরানের তেল বিক্রির সুবিধা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র
হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির ওপর দেওয়া বিশেষ ছাড়ও বাতিল করেছে। ছবি: সংগৃহীত
রয়টার্স
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১০:৪১ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১১:০৭
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির অনুমতিও বাতিল করেছে ওয়াশিংটন। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নেয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের বাহিনীর কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। এ কারণে ইরানকে ‘উচ্চ মূল্য’ দিতে বাধ্য করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ, সিরিক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সিরিকে একটি বাণিজ্যিক জেটিতে আঘাত হানা একটি প্রক্ষেপণের ধ্বংসাবশেষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। সেখানে মাছ ধরার নৌঘাট ও কয়েকটি মাছ ধরার নৌকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খার্গ দ্বীপ থেকে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়। তবে সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে ওই স্থানে হামলার কথা উল্লেখ করেনি।
এদিকে হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির ওপর দেওয়া বিশেষ ছাড়ও বাতিল করেছে। গত ২২ জুন দেওয়া ওই সাধারণ লাইসেন্সের আওতায় ইরানকে আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে সব লেনদেন গুটিয়ে ফেলতে হবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে যুদ্ধবিরতির কাঠামোগত সমঝোতা লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর পরিণতির দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনায় কাতার ইরানকে দায়ী করেছে। দেশটির অভিযোগ, ‘আল রেকাইয়াত’ নামে একটি কাতারি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)বাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগে। তবে নাবিকেরা নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওমান উপকূলের কাছে সৌদি আরবের পতাকাবাহী একটি সুপারট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
তবে কাতারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে। তবে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় না করে নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচল করলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে কাতারে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো কাজ শেষ করে দেব।’
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হুমকি অব্যাহত থাকলে স্থায়ী চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু হবে না।
- বিষয় :
- যুদ্ধবিরতি
- যুক্তরাষ্ট্র
- তেল
- ইরান