‘পুনঃশিক্ষা’ ক্যাম্প থেকে চাকরিতে উইঘুর মুসলমানরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২০ | ২২:৫৮ | আপডেট: ০২ মে ২০২০ | ২৩:০৪
কয়েক হাজার উহঘুর মুসলমানকে চাকরি দেওয়ার প্রকল্পটি ফের শুরু করেছে চীন সরকার। জিনজিয়াং প্রদেশে এই উইঘুরদের সবাইকে একটি ‘পুনঃশিক্ষা’ কার্যক্রম প্রকল্পে অংশ নিতে বাধ্য করেছিল দেশটির সরকার।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইঘুর মুসলমানদের চাকরির প্রকল্পটি গত বছরই হাতে নিয়েছিল চীন সরকার। এ বছরের প্রথম দিক থেকে সেটি স্বল্প আকারে কার্যকর করা হয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে তা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছিল না।
সিদ্ধান্তটি তখনই পুরোপুরি কার্যকর করতে না পারায় চীন সরকার কিছুটা অস্বস্তিত্বে পড়েছিল। কারণ দেশটির সরকার বারবার দাবি করে আসছে, জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের ‘পুনঃশিক্ষা’ প্রকল্প শুধুই একটি শিক্ষা কার্যক্রম। এর সঙ্গে সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বাটরি ওপর নির্যাতনের কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলে আসছেন, সরকারের ওই ‘পুনঃশিক্ষা’ কার্যক্রম আদতে উইঘুর জাতিসত্ত্বা ও ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ‘অস্তিত্ত্ব মুছে দেওয়ার একটি প্রকল্প’। এমন একটি নিপীড়নমূলক সরকারি কার্যক্রমে যুক্ত হতে বধ্য হয়েছেন উইঘুর মুসলমানরা।
বেইজিং শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, উইঘুর মুসলমানরা ভালো চাকরি পাওয়ার আগে যাতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পায় তারই ব্যবস্থা করছে সরকার। এ ছাড়া জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলমানরা যাতে ‘উগ্রপন্থা’য় না জড়ায় সে উদ্দেশেও হাতে নেওয়া হয় ‘পুনঃশিক্ষা’ প্রকল্পটি।
চীনে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ফলে দেশটির সরকার জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুরদের শ্রম শক্তিকে এখন অন্য প্রদেশে কাজে লাগানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
করোনাভাইরাসের কারণে চীনের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। এমন সময় বিপুল সংখ্যক উইঘুর মুসলমানদের শ্রম বাজারে যুক্ত করাটাও বড় ঝুঁকি বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এই জাতিগোষ্ঠীর ওপর যে ‘ইতিবাচক আচরণ’ করা হচ্ছে তা দেখাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বেইজিং।
‘পুনঃশিক্ষা’ কার্যক্রমে যারা যেমন ফল করেছে, তাদের তেমন চাকরিতে যুক্ত করা হবে। চীনের ১৯টি প্রদেশ ও পৌর এলাকায় এসব উইঘুর মুসলমানদের নিয়ে গিয়ে ‘যোগ্যতা’ অনুযায়ী কাজ দেওয়া হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে উহানসহ চীনের অন্যান্য অঞ্চলে করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমতে শুরু করে। তখন থেকে জিনজিয়াং প্রদেশেরই বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগ দিতে শুরু করেন বিপুল সংখ্যক উইঘুর। ওই মাসের শেষ নাগাদ ‘পুনঃশিক্ষা’ কার্যক্রমের শিবির থেকে বেরিয়ে ৬০ হাজার উঘুর জিনজিয়াং প্রদেশের বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগ দেন।
অন্যান্য প্রদেশেও কাজে যোগ দেন অনেকে। তাদের বেশিরভাগেরই চাকরি হয়েছে কপাড় ও খেলনা তৈরির কারখানায়।
চীনা সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, উইঘুর মুসলমানরা এখন থেকে মাসে যোগ্যতা অনুসারে ১৭০ থেকে ৫৬৫ ডলার আয় করতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ডরমেটরি (শ্রমিকদের থাকার জায়গা) ত্যাগ করতে পারবেন না তারা।
জাতিসংঘের মতে, জিনজিয়াং প্রদেশে ‘পুনঃশিক্ষা’ কার্যক্রমের নামে ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলামনকে কার্যত জোর করে বন্দি রেখেছে চীন সরকার। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোও একই অভিযোগ করে আসছে। যে সমস্ত উইঘুর মুসলমান কোনো মতে পালিয়ে বাঁচতে পেরেছেন, তারাও বলেছেন, বন্দি জীবনের কথা।
চীন সরকার বলছে, এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। উইঘুর মুসলমানরা যাতে ‘সন্ত্রাসবাদের’ দিকে পা না বাড়াতে পারে তার জন্যই কারিগরি ক্যাম্প খুলে তাদের ‘পুনঃশিক্ষার’ আয়োজন করা হয়েছে। যাতে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে ভালো চাকরি পায়।
- বিষয় :
- চীন
- উইঘুর মুসলমান