ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

করোনাকালে বালিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা

করোনাকালে বালিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা
×

বালিতে জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক - আল জাজিরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২০ | ০২:১৫ | আপডেট: ০৩ মে ২০২০ | ০২:৩০

সারা দুনিয়া যখন করোনায় ধুঁকছে, তখন ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে তার কোনো দৃশ্যমান চিহ্নই নেই। দ্বীপটিতে প্রতিমাসে অন্তত লাখ পাঁচেক পর্যটক তো এসে থাকে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন দেশে দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে লাগল, তখন থেকে মানে গত ২০ মার্চ থেকে দ্বীপটিতে বহিরাগত নিষিদ্ধ করা হলো। তারপর থেকে বালি দ্বীপ পর্যটক শূন্য। সারা দুনিয়া যখন লকডাউনে স্থবির, সেখানে বালিতে চলছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। নববর্ষ উৎসবে সাড়ম্বরে যোগ দিয়েছে কয়েক হাজার হিন্দু। রাজধানী ডেনপাসারের বাজারগুলোতে জীবন চলছে স্বাভাবিক ভাবে।

তবে বালিতে যে একদমই করোনা সংক্রমণ ঘটেনি তা নয়। গত শনিবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৫ রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২১ জন সেরে উঠেছেন, মারা গেছেন ৪ জন।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড -১৯-তে বালির স্পষ্ট প্রতিরোধ ক্ষমতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যাতে দ্বীপের আধ্যাত্মিকতা এবং রহস্যবাদকেও প্রতিবিম্বিত করেছে।

ইন্দোনেশিয়া হিন্দুধর্ম সোসাইটির প্রধান পুরোহিত গেদে ওয়ানসারি বলেছেন, বালির মানুষদের সদাচরণ ও প্রার্থনার কারণে এখানে করোনার  প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারছে না।

তিনি অবশ্য বালির মানুষদের খাদ্যাভ্যাসের দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, তাদের খাবারের তালিকায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে গুল্ম, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রধান পুরোহিতের দ্বিতীয় তত্ত্বটি সমর্থন করেছেন এই দ্বীপ নিয়ে কাজ করছেন, এমন কিছু গবেষক ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ। চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকেও চিন্তা করা হয়েছে বিষয়টা নিয়ে। জাভার পাদজাদাজারান বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. পানজি হাদিসোয়েমার্তো বলেন, 'করোনাভাইরাস যখন উহানে চিহ্নিত হয়েছিল, তখন আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কারণ বালিতে বেশিরভাগই চীনা পর্যটক। তাদের দ্বারা এটা এখানে সবার আগে সংক্রমিত হয়ে পড়বে। কিন্তু আমার ধারণা সঠিক হয়নি।'

ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসেব অনুসারে, ইন্দোনেশিয়ায় করোনা টেস্টের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য ৩৭৮, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১০ লাখে ২০ হাজার ২৪১ ও সিঙ্গাপুরে ২৪ হাজার ৬০০। বালিতে জনসংখ্যা চল্লিশ লাখ। আর টেস্ট কিট রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩০০।

অবশ্য ইন্দোনেশিয়ার সরকার জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে এমনটা ভেবে করোনাবিষয়ক তথ্য গোপনের কথাও স্বীকার করেছেন। এছাড়া বালির কিছু স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরীক্ষার ফলাফলে হস্তক্ষেপের কথাও শোনা গেছে।

তবে আল জাজিরার একটি প্রতিনিধি দল বালির একটি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও বালির সবচেয়ে বড় হাসপাতাল ঘুরেও হাসপাতালে জরুরি ওয়ার্ড ছাড়া তেমন কোনো ভিড় দেখতে পায়নি। সানলাহ হাসপাতালে জনা নয়েক রোগী ছিলেন, কিন্তু তাদের কারো করোনার সমস্যা ছিল না। অপেক্ষমাণ রোগীদের কাছ থেকে একটা কাশিও শোনা যায়নি বলে দাবি করেছেন প্রতিনিধিদল।

এদিকে দ্বীপের বৃহত্তম কাম্পুং জাওয়া মুসলিম কবরস্থান এবং তামান মুম্বুল শ্মশানঘরের কর্মীদের মাঝেও তেমন ব্যস্ততা দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন

×