ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

ক'দিন আগের প্রকৌশলী, রেস্তোরাঁ কর্মীরা এখন কৃষি শ্রমিক

ক'দিন আগের প্রকৌশলী, রেস্তোরাঁ কর্মীরা এখন কৃষি শ্রমিক
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২০ | ০৩:৪৮ | আপডেট: ০৩ মে ২০২০ | ০৪:১৪

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ব্রিটেনকেও অর্থনৈতিক দুরাবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কৃষি খাত তার বাইরে নয়। তবে দুর্ভিক্ষ সামাল দিতে এই খাতের চাহিদা-যোগান ব্যবস্থা ঠিক রাখার বিকল্প নেই। কিন্তু ব্রিটেনের অনেক কৃষি খামারি যেমন বিপদে পড়েছেন, তেমনি চাকরি হারিয়ে বিপদে পড়েছেন কৃষি বহির্ভূত খাতের কর্মীরা। এই দুইয়ের সম্মিলন ঘটেছে আবার ফসলের মাঠে এসেই।

নির্দিষ্ট সময়ে ফসল না তুললে খাদ্য সংকটের সৃষ্টি হবে। নষ্ট হবে প্রচুর ফসল। কিন্তু মহামারির এই সময় একদিকে কৃষি শ্রমিকের অভাব, অন্যদিকে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় উভয় সংকটে পড়েছেন খামারিরা। 

দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কেন্টের খামারি নিব ওটওয়েল। তার চাষ করা অ্যাপোলো লেটুস কিনে নিয়ে যায় ম্যাকডোনাল্ডের মতো চেইন রেস্তোরাঁ। মহামারির কারণে রেস্তোরাঁ বন্ধ। তাই ভীষণ দুশ্চিন্তায় ওটওয়েল। এ বছর লাভ তো দূরের কথা খরচ তোলা নিয়েই ভীষণ চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

কিন্তু ক্ষেতে থাকা লেটুস তো তুলতে হবে। ওটওয়েলের খামারে শ্রমিকের সংকট রয়েছে। আবার আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আইসবার্গ লেটুসের চাষ শুরু করবেন ওটওয়েল। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কয়েকজন তার খামারে কাজ করতে চেয়ে আবেদন করেন। সেখান থেকে আট জনকে বাছাই করে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছেন ওটওয়েল।

৩২ বছর বয়সী ডেনিয়েল মার্টিন খামারের কাজে যোগ দিয়েছেন। তিনি প্রকৌশলী ছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ। তাই বন্ধুর সঙ্গে তিনিও এখন একটি খামারে কাজ করছেন। তার যে খুব টাকার দরকার ব্যাপারটা এমন নয়। তবে শরীর ঠিক রাখতে আর বাড়িতে বসে বিরক্ত না হতেই মূলত কৃষি কাজে যোগ দিয়েছেন ডেনিয়েল।

স্যালি পেনফোল্ড করোনাভাইরাসের কারণে বেকারই হয়ে পড়েছেন। ৪৫ বছর বয়সী এই নারী একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। চাকরি যাওয়ার পর তিনি কৃষি কাজে যোগ দেন। তবে তার যে পেট চলছিল না ব্যাপারটা তেমন নয়। খামারগুলোতে শ্রমিক সংকটের কারণে খাদ্য সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে- এ বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। স্যালি বলেন, জাতির জন্য খাদ্য যোগান দেওয়ার চেয়ে মহৎ কাজ আর কী হতে পারে? তাই কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

৩২ বছর বয়সী টমাস টানসওয়েলও কয়েকদিন আগে চাকরি হারিয়েছেন। এরপর থেকেই উপার্জনের একটি পখ খুঁজছিলেন তিনি। পেয়ে যান কৃষি খামারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুযোগ।

তবে এ পরিস্থিতি কতদিন চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারি, ভোক্তা, শ্রমিক সবাই। কারণ কৃষি পণ্য সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব পড়বে সর্বত্র। সূত্র: সিএনএন।

আরও পড়ুন

×