মরক্কোয় করোনা ঠেকাতে ড্রোনের বহর মোতায়েন
ছবি : এএফপি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২০ | ০০:৪৪ | আপডেট: ০৬ মে ২০২০ | ০১:৩৫
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোয় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ড্রোনের বহর মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার। লকডাউনে কঠোর নজরদারি, সরকারি ঘোষণার কাজে ও জীবাণুনাশক ছেটাতে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব ড্রোন। বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চীনের ড্রোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিজেআই-এর উত্তর আফ্রিকার সরবরাহকারী ও ড্রোনওয়ে ম্যারোকের প্রধান ইয়াসিন কামাস। তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে মরক্কোয় ড্রোনের চাহিদা তিনগুণের বেশি বেড়েছে। একইরকম চাহিদা তৈরি হয়েছে এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও।
গত মার্চে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ঘোষণা করে মরক্কো। তবে কিছু মানুষ বিনা কারণে বাইরে বের হতে শুরু করলে তাদের ঘরে রাখতে তৎপরতা শুরু করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এক পর্যায়ে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে লকডাউন কার্যকরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন মোতায়েন শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। লকডাউন ভাঙলে জেল-জরিমানারও বিধান করা হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানোর চীনা মডেল অবশ্য পরবর্তীতে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকার অনেক দেশ গ্রহণ করেছে। অনেক দেশ চীন থেকে ড্রোনও আমদানি করতে শুরু করে।
তবে সম্প্রতি ড্রোনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশেই ড্রোন তৈরির কার্যক্রম শুরু করে মরক্কোর কয়েকটি কোম্পানি। রাজধানী রাবাতের কাছে তেমারা শহরে দেশীয় কোম্পানির তৈরি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারির পর করোনা ঠেকাতে ড্রোনের ব্যাবহার ও মোতায়েন নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে রাজী হয়নি মরক্কোর কর্তৃপক্ষ।
করোনা ঠেকানোর নামে সরকারি নজরদারি অনেক দেশে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে রাজতান্ত্রিক মরক্কোর জনগণের মধ্যে নজরদারি নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য নেই বলে জানিয়েছে এএফপি।
মরক্কোয় করোনভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৭৯ জনের।