কাবুলে হাসপাতালে হামলায় সদ্যোজাত শিশু-মাসহ নিহত ১৬
আফগান সৈনিকের কোলে শিশু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২০ | ২২:৫৩ | আপডেট: ১২ মে ২০২০ | ২৩:১৫
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি সরকারি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে জঙ্গি হামলায় সদ্যোজাত দুই শিশুসহ ১৬ নারী নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন শিশুসহ আরও ১৫ জন।
মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন বন্দুকধারী এ হামলা চালায়। তারা গুলির সঙ্গে বোমার বিস্ফোরণও ঘটায়। হাসপাতালে হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা জানা যায়নি। তালেবান এ হামলার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেছে।
এদিকে একইদিন আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নানগারহারে এক পুলিশ কর্মকর্তার জানাযায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস জঙ্গিরা। এসব হামলার প্রেক্ষিতে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি জানিয়েছেন, তালেবান ও অন্যান্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আবারও অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।
আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় হাসপাতালে দু'টি বিস্ফোরণ এবং গুলির শব্দ শুনতে পায় স্থানীয়রা। হামলাকারীরা পুলিশের পোশাক পরে হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা হাসাপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে উপর্যুপরি গুলি ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
হামলার সময় পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়া এক চিকিৎসক জানান, বন্দুকধারীরা যখন হামলা চালায় তখন হাসপাতালে শিশু-নারী ও নার্সসহ অন্তত ১৪০ জন উপস্থিত ছিলেন। হামলাকারীরা হাসপাতালে আসা মানুষের দিকে কোনো কারণ ছাড়াই গুলি ছুঁড়ছিল। পরে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাখানেক বন্দুকযুদ্ধ শেষে হামলাকারী সবাই মারা যায়। আফগানিস্তানের স্পেশাল ফোর্স ঘটনাস্থল থেকে তিনজন বিদেশিসহ ১০০ জন নারী ও শিশুকে উদ্ধার করেছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর এক সদস্য রক্তাক্ত চাদরে মুড়িয়ে এক নবজাতককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওই হামলায় ২ সদ্যজাতসহ কয়েকটি শিশু, কয়েকজন প্রসূতি মা ও নার্স মিলিয়ে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এ হামলার ঘটনায় মানবাধিকার সংস্থাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, হাসপাতালে হামলার ঘটনা 'অশুভ' এবং 'অযৌক্তিক'।
হাসপাতালে এ হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে তালেবান। তবে অতীতে কাবুলের শিয়া অধ্যূষিত এলাকাগুলোতে এ ধরণের হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে আইএস। ২০১৭ সালে মেডিকেল কর্মীর ছদ্মবেশে কাবুলের প্রধান সেনাহাসপাতালে বন্দুকধারীর হামলায় ৫০ জন মারা গিয়েছিল।
হাসপাতালে হামলার ঘটনার পর টেলিভিশন ভাষণে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তালেবান ও আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তালেবান বা অন্য জঙ্গি গোষ্ঠীর এ ধরণের হামলা ঠেকাতে আফগান নিরাপত্তাবাহিনীকে প্রতিরক্ষামূলক নয়, আক্রমণাত্মক কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করার নির্দেশ দিচ্ছি।’
ওদিকে আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে বালখ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন মারা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও তালেবানের দাবি, মারা যাওয়ারা সবাই বেসামরিক নাগরিক। তবে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যারা মারা গেছে তারা সবাই তালেবান।