যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আরেক দিন মৃত্যুহীন বাংলাদেশিরা
ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস
মাহফুজুর রহমান, নিউইয়র্ক থেকে
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২০ | ০০:১০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
মহামারি শুরুর পর নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি দিন (১২ মে) করোনায় কোনো বাংলাদেশি মারা যাননি। কিন্তু ৫৭ দিন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় ২৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু যেকোনো দেশে সর্বাধিক বাংলাদেশিদের মৃত্যুর রের্কড হয়ে আছে। ২ লাখেরও বেশি বাংলাদেশির বাস যে নিউইয়র্কে সেখানে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৩৩ জন।
এদিকে নিউইয়র্ক শহরে করোনায় মৃত্যুর গড় হিসাবে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১.১৭। এ ছাড়া নিউইয়র্কে এখন পর্যন্ত এই জীবাণুর আক্রমণে মারা গেছেন ১৯ হাজার ৯৬৬ জন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশিরা মারা গেছেন। সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় মারা গেছেন ট্যাক্সি চালক। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে, তাদের সংখ্যা ২৫ জনের মতো এবং এরা সবাই নিউইয়র্কের বাসিন্দা। তারপরেই রয়েছেন চিকিৎসকরা। ৮ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক মারা গেছেন। এরমধ্যে নিউইয়র্ক রাজ্যেই মারা গেছেন ৭ জন, অন্যজন মারা গেছেন মেরিল্যান্ডে। সেলস পার্সন মারা গেছেন ৭-৮ জন এবং এদের মধ্যে ৫ জন নারী। এরপরেই রয়েছেন নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মী। এই বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ তিনজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন করোনায়।
এদিকে বয়সের হিসাবে করোনার মৃত্যুর মিছিলে সংখ্যাধিক্য প্রবীণদের। যুক্তরাষ্ট্রে মোট প্রাণ দেওয়া ২৫৪ জনের অধেরেও বেশির বয়স ষাটের ওপরে। আরেকটু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রায় ৭০ জনেরই বয়স সত্তরের উপরে আর সবচেয়ে বেশি বয়সী ১০১ বছরের প্রবীণও মারা গেছেন করোনার আক্রমণে।
করোনা শুধু প্রবীণদেরই কেড়ে নেয়নি। করোনায় জীবন গেছে ১৬ বছরের কিশোর বাংলাদেশিরও। সন্তান সম্ভাবা নারীও মারা গেছেন। করোনায় আরও মারা গেছেন সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, সঙ্গীতশিল্পী ও খেলোয়াড়। নিউইয়র্ক বা যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় বাংলাদেশি অভিবাসী কমিউটির সর্ব স্তরে হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা।