ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

শরীরের বেশকিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে করোনাভাইরাস: এনএইচসি

শরীরের বেশকিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে করোনাভাইরাস: এনএইচসি
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২০ | ০৩:০৩ | আপডেট: ১৭ মে ২০২০ | ০৩:৩৩

নতুন করোনাভাইরাসের কারণে শরীরের বেশকিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ করেছে চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এ ভাইরাসটি শরীরের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (এনএইচসি) নতুন এক গাইডলাইনে বলেছে, করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠার পরও অনেক রোগীর দীর্ঘ সময় ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। অনেকের পেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাফেরায় সমস্য দেখা দিতে পারে। মানসিক ব্যাধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

চীনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে এ ধরনের রোগকে দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসেবে উল্লেখ করা হবে। সরকার পরিচালিত স্বাস্থ্য বীমার আওতায় এ ধরনের রোগীরা চিকিৎসা পাবেন।

এনএইচসি নতুন গাইডলাইনে বলেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেক রোগীর হাসপাতাল ছাড়ার পরই পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এর মানে হলো, সেরে ওঠার পরও তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর যাদের সামান্য বা মাঝারি উপসর্গ ছিল তাদের দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা খুবই কম। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের রোগীর সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে যেসব করোনা আক্রান্ত রোগীর উপসর্গ গুরুতর ছিল তাদের ক্ষেত্রেই দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ক্ষতির ঘটনাগুলো ঘটছে।

এনএইচসি জানিয়েছে, অনেকে সেরে ওঠার পর অ্যানজাইনা এবং অ্যারিথমিয়ার মতো জটিল হৃদরোগে ভুগতে শুরু করেছেন। করোনাভাইরাসের সঙ্গে এ ধরনের রোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন তারা এ রোগে ভুগতে পারেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের অনেকে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাদেরও নতুন গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষণ্ণতা, ইমসোমনিয়া থেকে শুরু করে ক্ষুধামন্দার মতো জটিল মানসিক স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে করোনাভাইরাসের কারণে।

তবে গাইডলাইনে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসে গুরুতর আক্রান্তদের অনেকের কিডনি বিকল হয়ে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের কারণে ত্বক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে রক্তে জমাট বেধেছে এবং স্ট্রোকের ঘটনাও ঘটেছে। শিশুদের নানারকম প্রদাহজনিত রোগের কথাও জানিয়েছেন অনেক চিকিৎসক।

চীনে প্রায় ৮৩ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চার হাজার ৬৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭৮ হাজারের বেশি রোগী।

আরও পড়ুন

×