আলবার্টায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা, অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন
আলবার্টার চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. ডিনা হিনসা এবং শিক্ষা মন্ত্রী আদ্রিয়ানা লগ্রেঞ্জ
আহসান রাজীব বুলবুল, কানাডা (আলবার্টা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২০ | ২৩:৩২
বরফাচ্ছন্ন কানাডায় নয় মাসই থাকে বরফে আচ্ছাদিত। সাধারণত মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কানাডায় গ্রীষ্মকাল।
এ বছর বৈশ্বিক মহামারি থাকার কারণে অনেকেই গ্রীষ্মকালীন সফর বাতিল করেছেন। বাইরে বেড়াতে যাওয়া আর কানাডার সুন্দর সুন্দর দৃশ্য অবলোকন থেকে বিরত রেখেছেন নিজেদেরকে। সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে অভিভাবকদের পরিকল্পনা থাকে সন্তানদেরকে নিয়ে বাইরে বের হওয়া। কিন্তু এ বছর করোনা থাকার কারণে সব পরিকল্পনাই বাতিল হয়েছে। তাছাড়া এ বছর মার্চ মাসের মধ্য থেকে অনেকেই ঘরে আইসোলেশন রয়েছে। ইতিমধ্যে কানাডায় ধীরে ধীরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও খুলতে শুরু করেছে।
কানাডার বিভিন্ন প্রভিন্সে ধীরে ধীরে সবকিছু আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আর শংকা রয়েই গেছে। একদিকে একটানা তিনমাস ঘরে বসে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আর অন্যদিকে অফিস খুলতে শুরু করায় এক দোটানার মধ্যে রয়েছে এখন কানাডাবাসী। আর এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে স্কুল কলেজ খোলা প্রসঙ্গ নিয়ে। অনেক অভিভাবকই এখন চিন্তিত পরবর্তী সেশনে তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে।
এদিকে আজ আলবার্টার শিক্ষা মন্ত্রী আদ্রিয়ানা লগ্রেঞ্জ এবং চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. ডিনা হিনসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা এবং এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের দিক নির্দেশনা প্রকাশ করেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনাটি আলবার্টা স্কুল বোর্ডস অ্যাসোসিয়েশন, আলবার্টা শিক্ষকদের সমিতি এবং কলেজ অব আলবার্টা স্কুল সুপারিন্টেন্ডেন্টসহ অন্যান্য শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আদ্রিয়ানা লগ্রেঞ্জ বলেন, তিনি আশা করছেন কিন্ডার গার্টেন থেকে গ্রেড ১২ শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সেশনের জন্য স্কুলে ফিরে আসবে, তবে জনস্বাস্থ্যের দিক নির্দেশনার ভিত্তিতে সরকার আগামী ১ আগস্টের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ১৫ জনকে ক্লাসে এবং দুই মিটার দৈহিক দূরত্ব অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পুনরায় স্কুল খুলে দেওয়ার পরিকল্পনায় অনেক অভিভাবকই উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে অনেকেই মনে করছেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হয়ে আসলেই কেবল তাদের সন্তানদেরকে স্কুলে পাঠাবেন।