ভারতে করোনা আক্রান্ত ৮ লাখ পেরুলো
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০ | ০৩:০৫ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ | ০৩:৫৫
ভারতে হু হু করে বাড়ছে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে সংক্রমণ ছাড়িয়ে গেল ৮ লাখ। সর্বশেষ এক লাখ আক্রান্তে সময়ে লেগেছে মাত্র চারদিন। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ হাজার ১১৪ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। যা একদিনের হিসেবে এখন পর্যন্ত সর্বাধিক। এ নিয়ে দেশটিতে মোট করোনা আক্রান্ত হলেন ৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ জন। বৈশ্বিক সংক্রমণের হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরই এখন ভারতের অবস্থান। খবর এনডিটিভির।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে আক্রান্ত বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুও বেড়ে চলেছে। শুক্রবার একদিনে ৫১৯ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হল ২২ হাজার ১২৩ জনের।
দেশে করোনার সংক্রমণ ও প্রাণহানির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র রাজ্য। এ রাজ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৯ হাজার ৮৯৩ জন। রাজধানী দিল্লিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ জনের। গুজরাটেও মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। এ রাজ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২২ জনের। তামিলনাড়ুতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৮২৯ জন। এছাড়া উত্তরপ্রদেশে ৮৮৯ জন, পশ্চিমবঙ্গে ৮৮০ জন ও মধ্যপ্রদেশে ৬৩৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে।
মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে সাত হাজারেও বেশি নতুন সংক্রমিত হয়েছে। এ রাজ্যে মোট আক্রান্ত হলেন ২ রাখ ৩৮ হাজার ৪৬১ জন। তামিলনাড়ুতে মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৩০ হাজার ২৬১ জন। রাজধানী দিল্লিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ১৪০। এছাড়া গুজরাটে ৪০ হাজার, উত্তরপ্রদেশে ৩৩ হাজার ৭০০ জন, কর্নাটকে ৩৩ হাজার ৪১৮ জন, তেলঙ্গানায় ৩২ হাজার ২২৪ জন এবং পশ্চিমবঙ্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হল ২৭ হাজার।
আক্রান্ত দ্রুত হারে বাড়লেও, ভারতে করোনা রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার পরিসংখ্যানটাও বেশ স্বস্তিদায়ক। এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের ৬২ শতাংশেরও বেশি সুস্থ হয়ে উঠছেন। মোট ৫ লাখ ১৫ হাজার ৩৮৫ জন করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়েছেন।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান মতে, ৩০ জানুয়ারি কেরালায় দেশের প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর গত সাড়ে পাঁচ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। এর মধ্যে আক্রান্ত এক থেকে এক লাখে পৌঁছতে লেগেছিল ১১০ দিন।
এরপরই যেন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে সংক্রমণ। সংক্রমণ এক লাখ থেকে দু’লাখে পৌঁছতে সময় লেগেছিল ১৫ দিন। দুই থেকে তিন লাখে পৌঁছতে ১০ দিন লেগেছে। চতুর্থ লাখ ৯ দিনে, পঞ্চম লাখ ৬ দিনে সংক্রমিত হয়। এরপর পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখে পৌঁছতে লেগেছিল ৫ দিন। আর ৬ লাখ থেকে ৭ লাখে পৌঁছতে লাগে মাত্র চারদিন। সবশেষ সাত লাখ থেকে আট লাখে পৌঁছতেও সময় লাগলো চারদিন।
- বিষয় :
- করোনাভাইরাস
- মহামারি
- করোনার প্রাদুর্ভাব