ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা ভারতে নেই, সংবিধান মেনে ব্যবস্থা: নরেন্দ্র মোদি

অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা ভারতে নেই, সংবিধান মেনে ব্যবস্থা: নরেন্দ্র মোদি
×

নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫ | ২১:০২ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২৫ | ২১:০২

ভারতে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সংবিধান মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা নেই। যারা ভারতের নাগরিক নয়; যারা বেআইনিভাবে ভারতে এসেছেন; তাদের বিরুদ্ধে সংবিধান মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারতজুড়ে চলমান অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরপাকড় ও প্রত্যার্পণ ইস্যুতে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্প্রতি ভারতজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরপাকড় অভিযান শুরু করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। অভিযোগ ওঠে বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই অনুপ্রবেশকারী বলে হেনস্থা করা হচ্ছে। একাধিক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধে ধরপাকড় ও বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশের অবৈধপথে পুশব্যাক করছে ভারতীয় প্রশাসন। এমন অবস্থায় বাঙালি হেনস্থার প্রতিবাদে গত বুধবার পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন পরিস্থিতিতে আজ কয়েক ঘণ্টার বঙ্গসফরে এসে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূলের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বলেন, টিএমসি নিজের স্বার্থের জন্য অনুপ্রবেশকারীদের নকল কাগজ বানিয়ে দিচ্ছে।

শুক্রবার দুর্গাপুরের জনসভা থেকে মোদী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কী হচ্ছে? নিজেদের স্বার্থে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সেজন্য এখানে অনুপ্রবেশে মদত জোগানো হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের জালি নথিপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এই কাজটার জন্য একটা পুরো সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। এই পশ্চিমবঙ্গ ও দেশের সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক। এটা বাংলার সংস্কৃতির জন্য বিপজ্জনক। কিন্তু তোষামদের জন্য তৃণমূল সব সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। যে কোনও ধরণের চক্রান্ত বিজেপি সফল হতে দেবে না। বাংলার ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রয়োজন।

মোদী দাবি করেন, আজ যখন দেশের সামনে তৃণমূলের মুখোশ খুলে গিয়েছে, তখন অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে নয়া কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছে। দেশের সংবিধান এবং দেশের সাংবিধানিক সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে তৃণমূল। এখন তৃণমূল খোলাখুলি অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থনে ময়দানে নেমে পড়েছে।

মোদী বলেন, আমি দুর্গাপুরের মাটি থেকে স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, যে ভারতের নাগরিক নয়, যে অনুপ্রবেশ করে ভারতে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়সম্মত পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়া হবে। বাংলার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, সেটাকে সফল হতে দেবে না বিজেপি। এটা মোদীর গ্যারান্টি।

এদিন দুর্গাপুরে বিজেপির সভার আগে বাংলার জন্য প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বাংলার ৭ প্রকল্পের শিলান্যাস করেন নরেন্দ্র মোদি। তার মধ্যে রয়েছে বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় গ্যাস পাইপ লাইন, দুর্গাপুর-কলকাতা গ্যাস পাইপ লাইন, দুর্গাপুর ইস্পাত ও রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পুরুলিয়া-কলকাতা রেললাইন ডাবলিং (৩৬ কিলোমিটার)। সরকারি অনুষ্ঠানের পরই রাজনৈতিক সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। যদিও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেননি প্রধানমন্ত্রী। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে এসে ‘দিদি’, ‘দিদি’-র মতো কটাক্ষ করলেও এবার সেপথে হাঁটেননি প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

×