ভারতে শতাধিক নারীকে ধর্ষণের পর মাটিচাপার অভিযোগ তোলা সেই ব্যক্তি গ্রেপ্তার
ছবি: বিবিসি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৫ | ১৯:১০ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৫ | ১৮:৩৪
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ধর্মীয় শহর ‘ধর্মস্থলে’ শতাধিক নারীকে ধর্ষণের পর মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ তোলা সেই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 'মিথ্যা বলার জন্য’ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ ঘিরে রাজ্যটিতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
'ধর্মস্থল' মন্দিরের শহর হিসেবে পরিচিত। শতাব্দী প্রাচীন মন্দির রয়েছে এই শহর। প্রতিদিন হাজার হাজার তীর্থযাত্রী স্থানটি ভ্রমণ করেন। মনোরম এই শহরে রোমহর্ষক এক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন প্রাচীন মন্দিরের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তার দাবি, শতাধিক নারীকে ধর্ষণের পর মরদেহ মাটিচাপা দিতে তাকে বাধ্য করা হয়েছে। খবর বিবিসির
মন্দিরের সাবেক ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, '১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কাজ করার সময় তাকে এসব কাজ করতে হয়েছিল। নারীদের প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে হত্যা করা হয়।'
গত জুলাইয়ে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালতে হাজির হওয়ার সময় ব্যাগ থেকে একটি মানুষের মাথার খুলি বের করে তিনি দাবি করেন, এটি তারই পুঁতে রাখা কোনো ভুক্তভোগীর দেহাবশেষ।
তার এই অভিযোগ যাচাই করতে সরকার একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করে। এরপর শনিবার মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়।
মন্দিরের সাবেক এই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১৩টি জায়গা চিহ্নিত করেন, যার কিছু দুর্গম।
মন্দিরের প্রধান প্রশাসক বীরেন্দ্র হেগড়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ‘চিরকালের জন্য সত্য বেরিয়ে আসা উচিত।’ বিষয়টি নিয়ে কর্ণাটকের রাজনীতিতেও তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে রাজ্যের শাসক কংগ্রেস সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেন, 'সরকারের কোনো উদ্দেশ্য কাউকে আড়াল করা বা কাউকে হেয় করা নয়। সত্যটা প্রকাশিত হওয়া উচিত।'
উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরুর দিকে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মী পুলিশের কাছে অভিযোগটি করেন। এরপর বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য তাকে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। তবে তার পরিচয় এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
