ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বাতিল হলো অ্যান্ড্রুর ‘রাজপুত্র’ খেতাব, ছাড়তে হবে রাজকীয় বাড়িও

বাতিল হলো অ্যান্ড্রুর ‘রাজপুত্র’ খেতাব, ছাড়তে হবে রাজকীয় বাড়িও
×

প্রিন্স অ্যান্ড্রু

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:৫২ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ১৩:০৭

যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সদস্য ও রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রুর ‘রাজপুত্র’ খেতাব বাতিল করা হয়েছে। ফলে তাকে ছাড়তে হবে উইন্ডসরের রাজকীয় বাসভবন ‘রয়েল লজ’ও।

বিতর্কিত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র সমালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। খবর বিবিসির

বৃহস্পতিবার রাতে বাকিংহাম প্রাসাদ এক বিবৃতিতে বলেছে, এখন থেকে রাজার ভাই ‘অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর’ নামে পরিচিত হবেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর অ্যান্ড্রু তার অন্যান্য রাজকীয় উপাধি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগকারী নারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের একটি স্মৃতিকথা প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে সমালোচনা আরও বেড়ে যায়।

জিউফ্রের মৃত্যুর পর চলতি মাসের শুরুর দিকে তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করা হয়েছে। আত্মজীবনীতে জিউফ্রে অভিযোগ করেছেন, কিশোরী বয়সে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার কয়েকবার যৌন সম্পর্ক হয়েছে। তবে অ্যান্ড্রু বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

অ্যান্ড্রুর উপাধি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় জিউফ্রের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে,  ‘ভার্জিনিয়া নিজের সত্য ও অসাধারণ সাহস দিয়ে এক ব্রিটিশ রাজপুত্রকে পরাজিত করেছেন।’

জীবিত থাকাকালেও অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন জিউফ্রে। অ্যান্ড্রু ২০২২ সালে জিউফ্রের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মামলাটি মীমাংসা করেছেন।

বাকিংহাম প্যালেসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা আজ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সব ধরনের উপাধি, সম্মাননা ও রাজকীয় মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উপাধি বাতিল করা ছাড়াও অ্যান্ড্রুকে দেওয়া রয়েল লজ বাড়িটির ইজারা বাতিলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে এখন স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে থাকতে হবে। জানা গেছে, রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বহন করা হবে এর খরচ।

রাজপ্রাসাদ বলছে, ‘অ্যান্ড্রু নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও এ শাস্তিগুলো অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়েছে।’

অ্যান্ড্রুর উপাধি কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় জিউফ্রের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে,  ‘ভার্জিনিয়া নিজের সত্য ও অসাধারণ সাহস দিয়ে এক ব্রিটিশ রাজপুত্রকে পরাজিত করেছেন।’

জীবিত থাকাকালেও অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন জিউফ্রে। অ্যান্ড্রু ২০২২ সালে জিউফ্রের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মামলাটি মীমাংসা করেছেন।

বাকিংহাম প্যালেসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা আজ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সব ধরনের উপাধি, সম্মাননা ও রাজকীয় মর্যাদা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উপাধি বাতিল করা ছাড়াও অ্যান্ড্রুকে দেওয়া রয়েল লজ বাড়িটির ইজারা বাতিলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে এখন স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে থাকতে হবে। জানা গেছে, রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বহন করা হবে এর খরচ।

রাজপ্রাসাদ বলছে, ‘অ্যান্ড্রু নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও এ শাস্তিগুলো অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়েছে।’

যে কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকারদের পাশে থাকার কথাও বলা হয়েছে বাকিংহাম প্রাসাদের বিবৃতিতে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রুর দুই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে প্রিন্সেস ইউজিনি ও প্রিন্সেস বিআট্রিস, তাদের রাজকুমারীর উপাধি ধরে রাখবেন। যদিও অ্যান্ড্রু এখনও সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনও রয়্যাল লজ ছাড়বেন এবং নিজের বাসস্থানের ব্যবস্থা করবেন।

এ মাসের শুরুতেও তার নাম ছিল ‘সারা, ডাচেস অব ইয়র্ক’; তবে অ্যান্ড্রু স্বেচ্ছায় ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ উপাধি ত্যাগ করার পর তিনি আবার নিজের পারিবারিক নাম ফার্গুসন ব্যবহার শুরু করেছেন।

অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত এল একাধিক কেলেঙ্কারির পর, যা গত কিছুদিন ধরে রাজপরিবারকে প্রবল চাপের মধ্যে রেখেছে।

চলতি মাসে ২০১১ সালের কিছু ই-মেইল প্রকাশ্যে আসে। সেখানে দেখা যায়, এপস্টেইনের সঙ্গে যে সময় যোগাযোগ বন্ধ হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেছেন, তার কয়েক মাস পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগে ছিল।

অ্যান্ড্রুর আর্থিক অবস্থা ও জীবনযাপন নিয়েও নতুন নতুন প্রশ্ন উঠতে থাকে। তিনি যখন আর রাজকীয় দায়িত্বে নেই, তাহলে কীভাবে তিনি বিলাসী জীবনযাপন বজায় রাখছেন, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।

অ্যান্ড্রু ২০০৪ সাল থেকে রয়্যাল লজে বসবাস করছেন। ২০০৩ সালে তিনি ক্রাউন এস্টেট থেকে ৭৫ বছরের জন্য ওই বাড়ির বরাদ্দ পান।

উইন্ডসর এস্টেটের গ্রেড-টু তালিকাভুক্ত রয়্যাল লজে রয়েছে মালীঘর, একটি ছোট চ্যাপেল লজ, ছয় শোবার ঘরের একটি কটেজ এবং নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার জায়গা।

গত সপ্তাহে লিজচুক্তির কিছু তথ্য প্রকাশ পেলে জানা যায়, অ্যান্ড্রু কেবল নামমাত্র ভাড়া দিতেন। তবে সেই অর্থও তাকে নিয়মিত দিতে হত না। কারণ, ভবন সংস্কারের জন্য তিনি মোটা অংকের এককালীন অর্থ দিয়ে রেখেছিলেন, যা ভবিষ্যতের ভাড়া হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিবিসি নিউজের দেখা এক নথি অনুযায়ী, অ্যান্ড্রুর বার্ষিক ভাড়া ২ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড ধরা হলেও তিনি আগাম অর্থ দিয়ে ৭৫ বছরের পুরো মেয়াদের ভাড়া থেকে দায়মুক্তি পেয়েছেন। জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অর্থের মোট পরিমাণ ছিল ৮০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি।

২০০৬ সালে অ্যান্ড্রু রয়্যাল লজে এপস্টেইনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তার মেয়ে বিআট্রিসের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে। অথচ তার দুই মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্রে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। এ বিষয়ে অ্যান্ড্রুর কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাকিংহাম প্রাসাদ এখন অ্যান্ড্রুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের কেলেঙ্কারিগুলোর চূড়ান্ত ইতি টানতে চায়।

আরও পড়ুন

×