গাজায় হাসপাতালে ধুঁকছে রোগী
ইসরায়েলি হামলায় আহতদের গাজায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১৩:৪২
গাজার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আল-আকসা হাসপাতাল। এখানে বিসান আবু আমির এমন এক প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন, যা আসলেই পূরণ হওয়ার নয়। চিকিৎসকরা এখনও তাঁর অসুস্থতা নির্ণয় করতে পারেননি। তাঁর মা বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসার সরঞ্জাম নেই। কী হয়েছে তাঁর সেটাই নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক হাসপাতাল তারা ঘুরেছে। কোথাও চিকিৎসা হয়নি।
তাদের ওয়ার্ডের বিপরীতে ওয়ালিদ নামে এক ১৩ বছর বয়সী কিশোর পড়ে আছে। সে হঠাৎ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এটি একটি বিরল ব্যাধি। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তার মা বলেন, ইসরায়েলিদের ছোড়া বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে তার এমনটা হয়েছে। নড়াচড়া কিংবা কথা বলার ক্ষমতা সে হারিয়ে ফেলেছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দারা তাদের জীবন নিয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে। একদিকে তাদের ঘরবাড়ি নেই, অন্যদিকে খাবারের সংকট। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা না থাকায় হাজার হাজার রোগী মৃত্যুমুখে পড়েছে। বাস্তুচ্যুত শত শত পরিবার তাদের স্বজনের মরদেহ খুঁজে পাচ্ছে না। গাজার ধ্বংসস্তূপে অন্তত ১০ হাজার মরদেহ চাপা পড়ে আছে। উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় লাশগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যেই হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গতকাল সোমবারও দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৯৪ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।
আলজাজিরা জানায়, প্রায় চার হাজার শিশুসহ কমপক্ষে ১৫ হাজার রোগী গাজার বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে মিসর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিং বন্ধ থাকায় তারা আটকা পড়েছেন। এদিকে হামাস জিম্মি তিন ইসরায়েলি সেনার মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে। গতকাল রোববার গাজায় রেড ক্রসের মাধ্যমে হামাসের কাছ থেকে প্রাপ্ত তিনজন নিহত জিম্মির পরিচয় ইসরায়েল নিশ্চিত করেছে। হামাসের হাতে আরও আটজন মৃত জিম্মি রয়েছে। দক্ষিণ গাজার খানইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন এক ফিলিস্তিনি। অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে অভিযান চালিয়েছে হানাদার বাহিনী। নাবলুসের দক্ষিণে হামলার সময় বসতি স্থাপনকারীরা গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায়ও হামলা চালিয়েছে যুদ্ধবিমান। হেবরনের উত্তরে বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিকে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে। তার নাম আহমেদ রাবি আল-আতরাশ। এ ছাড়া পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় নাবলুসের পূর্বে বেইত ফৌরিকে ১৭ বছর বয়সী জামিল আতেফ হানানিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গত দুই বছরে হামলায় অন্তত ৬৮ হাজার ৮৫৮ জন নিহত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিবিএস নিউজে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গাজায় চুক্তির পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলেও তিনি যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা করেছিলেন, তা কখনও ভঙ্গুর নয়।
হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিখোঁজ
আনাদোলু জানায়, গাজার মিডিয়া অফিস উল্লেখ করেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ধ্বংস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারে ভারী মেশিন গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়ার কথা। কিন্তু ইসরায়েল এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। বুলডোজারসহ ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম গাজায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ ইসরায়েলি জিম্মিদের মৃতদেহ উদ্ধারে ভারী যন্ত্র পাঠিয়েছে ইসরায়েল। প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি এখনও নিখোঁজ রয়েছে। পরিবার বলছে, তারা মারা গেছে, না অন্যত্র কোথাও আছে, তা তারা জানে না। গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।
অন্যদিকে চুক্তি অনুযায়ী গাজায় তিন লাখের বেশি তাঁবু পাঠানোর কথা থাকলেও ইসরায়েল পাঠায়নি। ফলে দুই লাখ ৮৮ হাজার ফিলিস্তিনি পরিবার রাস্তায় ও খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
- বিষয় :
- গাজায় হামলা
- ফিলিস্তিনি
- আল আকসা মসজিদ
