বিরোধীদের হট্টগোলের পর পাকিস্তানের সিনেটে ২৭তম সংশোধনী পাস
অধিবেশন চলার সময় সিনেট চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ রাজা জিলানির সামনে উড়ছে বিলের ছেঁড়া কপি। ছবি: ডনের সৌজন্যে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ১৯:৫৩ | আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ১৯:৫৭
পাকিস্তানের সিনেটে সংবিধানের বিতর্কিত ২৭তম সংশোধনী পাস হয়েছে। সোমবার সিনেট অধিবেশনে বিরোধীদের প্রতিবাদের মুখেই সংশোধনী সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আজম নজির। এটি পাস হওয়ার আগ মুহূর্তে বিরোধী সিনেটররা ওয়াকআউট করেন।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিনেট চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ রাজা জিলানি। বিল পাসের আগেই বিরোধী সিনেটররা তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা সরকার ও জোটসঙ্গীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে আইনমন্ত্রীর দিকে বিলের কপি ছোড়েন। পরে বেশিরভাগ বিরোধী সিনেটর বেরিয়ে যান। এরপর বিলটি পাস হয়।
এর আগে পার্লামেন্টের আইন ও বিচারবিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিলে কিছু সংশোধনী এনে অনুমোদন দেওয়া হয়। বিরোধীরা ওই বৈঠকও বর্জন করেন।
পাকিস্তানের আরেক গণমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। সংশোধনীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬৪ জন সিনেটর। বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। বিলটি পাসের জন্য ৯৬ সিনেটরের মধ্যে ৬৪ জনের সমর্থন লাগতো।
সংবিধানের এই সংশোধনীর লক্ষ্য হলো শাসন কাঠামোর আধুনিকীকরণ। প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করা এবং ২০০৬ সালের ‘চার্টার অব ডেমোক্রেসি’-এর আওতায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা।
তবে গত কয়েক দিন ধরে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয় সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে। এর আওতায় এতদিন সশস্ত্র বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু সংশোধনের পর সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকবেন সেনাপ্রধান। তিনি সব বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) ওপর সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন। বলা হচ্ছে, এটি পাকিস্তানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনে ক্ষমতার ভারসাম্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধন ও সেনাপ্রধানের ক্ষমতা নিয়ে কেন বিতর্ক
সংবিধানে সামরিক ক্ষমতা জায়গা পেলে বিপর্যয়ের পথ তৈরি হবে
- বিষয় :
- সংবিধান সংশোধনী
- বিল পাস
- পাকিস্তান
