ইইউ খসড়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করায় অনিশ্চয়তার মুখে কপ৩০
ছবি: রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:৪২ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:৪৭
ব্রাজিলের বেলেমে চলমান কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলন শেষ মুহূর্তে এসে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তাদের অভিযোগ, খসড়াটি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় কোনো অগ্রগতি আনবে না।
দুই সপ্তাহব্যাপী এ সম্মেলন শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে রাতেও আলোচনা চলে। খবর রয়টার্সের
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চুক্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানির উল্লেখ থাকবে কি-না, এই নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে।
সম্মেলন আয়োজক দেশ ব্রাজিল জানিয়েছে, কপ৩০ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সহযোগিতার ‘টার্নিং পয়েন্ট’। ফসিল জ্বালানির ভবিষ্যৎ, জলবায়ু তহবিল ও নিঃসরণ কমানো- এসব বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে দেশগুলোকে আহ্বান জানায় তারা।
কপ৩০ এর সভাপতি আন্দ্রে করেয়া দে লাগো বলেন, ‘এই ইস্যু আমাদের বিভক্ত করতে পারে না। আমাদের অবশ্যই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।’
ইইউ-এর আপত্তি, উন্নয়নশীল দেশের পাল্টা চাপ
ইইউ বলছে, প্রস্তাবিত খসড়ায় নিঃসরণ কমানোর পদক্ষেপ দুর্বল। অন্যদিকে কিছু উন্নয়নশীল দেশ অভিযোগ করেছে, ইইউ নিজে ফসিল জ্বালানি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও জলবায়ু তহবিল বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না।
এক উন্নয়নশীল দেশের আলোচক বলেন, ‘ফসিল জ্বালানির জন্য যদি পথ থাকে, তবে জলবায়ু তহবিলের জন্যও পথ থাকতে হবে।’
প্রায় দুই সপ্তাহের আলোচনার পর আয়োজক ব্রাজিল শুক্রবার নতুন খসড়া প্রকাশ করেছে। এতে ‘ফসিল ফুয়েল’ বা ‘রোডম্যাপ’ শব্দের কোনো উল্লেখ নেই। অথচ প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নিজেই প্রকাশ্যে এই রোডম্যাপের পক্ষে ছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু কমিশনার ভপকে হোকস্ত্রা বলেছেন, এই প্রস্তাব ‘গ্রহণযোগ্য নয়।’
তার মতে, সম্মেলন কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ভারাক্রান্ত মনে বলছি, এখন টেবিলে যা আছে, তা স্পষ্টত কোনো চুক্তিই নয়।’
এদিকে সম্মেলনের শুরুর দিকে প্রায় ৮০টি দেশ ফসিল জ্বালানি থেকে সরে যাওয়ার রোডম্যাপ দাবি করেছিল। তবে শুক্রবার রাত নাগাদ অনেক দেশই ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা চুক্তি মেনে নিতে পারে।
আরব গ্রুপের হুঁশিয়ারি
আলোচনায় আরও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে আরব গ্রুপের অবস্থানে। তেল সমৃদ্ধ ২২টি দেশের এই জোট জানায়, তাদের জ্বালানি শিল্প নিয়ে কোনো আলোচনা ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং এতে আলোচনাই ভেঙে পড়তে পারে। সৌদি আরব আলোচকদের সতর্ক করে জানায়, তাদের শিল্পকে লক্ষ্য করলে ‘আলোচনার পতন’ ঘটবে।
খসড়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু অভিযোজন তহবিল তিনগুণ বাড়ানোর কথা বলা হলেও অর্থ কোথা থেকে আসবে- তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। ধনী দেশ, উন্নয়ন ব্যাংক কিংবা বেসরকারি খাত-সবই সম্ভাব্য উৎস হিসেবে রাখা হয়েছে। চুক্তি গ্রহণে প্রায় ২০০ দেশের সম্মতি প্রয়োজন।
- বিষয় :
- ইইউ
- জলবায়ু সংকট
- জলবায়ু সম্মেলন
- ব্রাজিল
- আরব দেশ
- ফসিল
