ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আসাদ পতনের এক বছর: উৎসব পেরিয়ে নিখোঁজদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা

আসাদ পতনের এক বছর: উৎসব পেরিয়ে নিখোঁজদের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা
×

সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির বছর পূর্তি উদযাপন করেন সিরীয়রা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৩:০৬

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির বছর পূর্তি উদযাপন করছেন সিরীয়রা। সোমবার রাজধানী দামেস্কের উমাইয়াদ স্কয়ারে অনুষ্ঠানিকভাবে বছর পূর্তি উদযাপন হবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এক বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত আসাদ দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান। বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা তখন রাজধানী দামেস্ক দখল করে আসাদের দীর্ঘদিনের শাসনের পতন ঘটায়। এর আগে ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছিল।

আসাদ সরকারের পতনের এক বছর পূর্ণ হলেও দেশটিতে এখনও শেষ হয়নি হাজারো পরিবারের প্রতীক্ষা। ক্ষমতার পালাবদলের পরও নিখোঁজ স্বজনদের ভাগ্য জানতে না পেরে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে অসংখ্য পরিবার।

সরকারি ও মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আসাদের শাসনামলে প্রায় দেড় লাখ মানুষ কারাগারে নিখোঁজ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অনেককে গোপনে আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এদের অনেকেরই আজও কোনো খোঁজ মেলেনি।

এই পরিস্থিতিতে গত মে মাসে ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর মিসিং পারসন্স’ গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। দামেস্কের কাছে বসবাসকারী আমিনা বেকাই ১৩ বছর ধরে তাঁর স্বামী মাহমুদ ও ভাই আহমেদের কোনো খোঁজ পাননি। প্রতিদিন ইন্টারনেটে তাদের নাম লিখে খুঁজে চলাই এখন তাঁর নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

আসাদ পতনের পর প্রথম দিকে তাঁর আশা ছিল, কারাগারের নথিপত্র প্রকাশ করা হবে। গণকবর উত্তোলন করে পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে। বাস্তবে এক বছরে সেসব প্রতিশ্রুতির কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি বলেই মনে করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

সরকারি কমিশন বলছে, তারা বৈজ্ঞানিক ও পদ্ধতিগতভাবে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে এবং আগামী বছর নিখোঁজদের একটি কেন্দ্রীয় তথ্য তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটি অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত এবং এতে পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে না।

আসাদের মুক্ত হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও সিরিয়ার বহু পরিবার আজও একই প্রশ্নের মুখে– তাদের প্রিয়জনরা কোথায়, জীবিত না মৃত? এই অনিশ্চয়তাই এখন যুদ্ধ-পরবর্তী সিরিয়ার সবচেয়ে নীরব মানবিক সংকট। 

আরও পড়ুন

×