কিছু আনন্দ আর বিষাদ নিয়ে বেথলেহেমে বড়দিনের উদযাপন
বেথলেহেমের মেঞ্জার স্কয়ারে বড়দিন উদযাপনের সময় ব্যাগপাইপ বাজান ফিলিস্তিনিরা। ছবি: আলজাজিরার সৌজন্যে
আলজাজিরা
প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৩:৩৬ | আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৪:১০
বেথলেহেমের মেঞ্জার স্কয়ারে পরিপাটি পোশাকে স্কাউট দলের শোভাযাত্রা যখন সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন বেজে ওঠে ঢোল ও ব্রাস বাদ্য। গাওয়া হয় বড়দিনের ক্যারোল, বাজানো হয় ফিলিস্তিনের ঐতিহ্যবাহী সুর।
গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বেথলেহেমে স্থগিত ছিল বড়দিনের সব ধরনের উদযাপন। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ায় এবার উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু অস্ত্রবিরতি চললেও গাজায় থেমে নেই ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও হত্যা। তাই যিশুর জন্মস্থানের শহরে বড়দিনের উদযাপনে আনন্দ ও বিষাদের সুর যেন একাকার হয়ে গেছে।
বুধবার বড়দিনের আগের দিন উদযাপনের মধ্যে ছিল এক ধরনের আবেগীয় আবহ। এতে উপস্থিত ছিলেন জেরুজালেমের লাতিন প্যাট্রিয়ার্ক পিয়ারবাত্তিস্তা পিৎসাবাল্লা। তিনি ফিলিস্তিন ও বৃহত্তর অঞ্চলের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ক্যাথলিক ধর্মীয় নেতা। বলেন, ‘বেথলেহেমে দাঁড়িয়ে পুরো বিশ্বের উদ্দেশে বড়দিনের বার্তা দিচ্ছি। আগামীতে মানুষের মুখও যেন আলোর মতো উজ্জ্বল থাকে।’

মেঞ্জার স্কয়ারে উৎসবের আবহ সাময়িকভাবে আনন্দের ছোঁয়া দিলেও যুদ্ধের বাস্তবতাও লক্ষ্য করা যায়। ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান ও চেকপোস্টে নজরদারি অব্যাহত ছিল। উদযাপন শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বেথলেহেমের কাছের ধেইশেহ ও আইদা শরণার্থী শিবির থেকে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে নেতানিয়াহুর বাহিনী।
বেথলেহেম ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানও তীব্র হয়েছে। গত দুই বছরে এসব অভিযানে ইসরায়েলিদের হাতে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা থেকে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানরাও রেহাই পাননি। গত জুলাইয়ে গাজায় একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় হামলায় তিনজন নিহত হন। একই মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি খ্রিস্টান অধ্যুষিত শহরেও হামলার ঘটনা ঘটে।
গত অক্টোবরে গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও ইসরায়েল উপত্যকাটিতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এতে কয়েক’শ মানুষ নিহত হয়েছে।
- বিষয় :
- বড়দিন
- পশ্চিম তীর
- ফিলিস্তিন
- জেরুজালেম
