ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

৪ ঘণ্টা সাঁতরে তীরে ফিরে মা ও দুই ভাইবোনকে বাঁচাল ১৩ বছরের কিশোর

৪ ঘণ্টা সাঁতরে তীরে ফিরে মা ও দুই ভাইবোনকে বাঁচাল ১৩ বছরের কিশোর
×

ছবি: বিবিসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০২:১৯ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০২:২৩

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের জিওগ্রাফ বে উপকূলে সমুদ্রে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ভাইবোনকে উদ্ধার করতে সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ১৩ বছরের এক কিশোর। প্রবল বাতাস ও ঢেউয়ের মধ্যে প্রায় চার কিলোমিটার সাঁতরে তীরে ফিরে এসে সে বিপদের খবর দেয়, যার ফলে তার মা ও দুই ভাইবোনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে ওই পরিবারটি জিওগ্রাফ বেতে প্যাডেলবোর্ড ও কায়াকিং করছিল। এ সময় হঠাৎ বাতাসের গতি বেড়ে গেলে তাদের ভাসমান যানগুলো পথচ্যুত হয়ে গভীর সমুদ্রে চলে যায়। পরিস্থিতি বুঝে কিশোরটি তীরে ফিরে সাহায্য আনতে কায়াক চালাতে শুরু করে। তবে কিছু দূর যাওয়ার পর কায়াকে পানি ঢুকে পড়লে সে সাঁতরে বাকি পথ পাড়ি দেয়।

ন্যাচারালিস্ট ভলান্টিয়ার মেরিন রেসকিউ গ্রুপের কমান্ডার পল ব্রেসল্যান্ড এ ঘটনাকে ‘অসাধারণ সাহসিকতা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, কিশোরটি প্রথম দুই ঘণ্টা লাইফ জ্যাকেট পরে সাঁতার কাটে। পরে মনে করে এতে এগোনো কঠিন, সে জ্যাকেট খুলে আরও দুই ঘণ্টা সাঁতরে তীরে পৌঁছায়।

শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কিশোরটি তীরে পৌঁছে কর্তৃপক্ষকে জানালে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রায় সাড়ে আটটার দিকে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার তার ৪৭ বছর বয়সী মা, ১২ বছরের ভাই ও আট বছরের বোনকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে একটি প্যাডেলবোর্ড আঁকড়ে ধরে থাকতে দেখে। পরে একটি স্বেচ্ছাসেবী নৌযান তাদের নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনে।

পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেমস ব্র্যাডলি বলেন, সমুদ্রের পরিস্থিতি কত দ্রুত বদলে যেতে পারে, এ ঘটনা তার বড় উদাহরণ। তিনি বলেন, ‘লাইফ জ্যাকেট পরা থাকায় তারা বেঁচে গেছে। আর ১৩ বছরের ছেলেটির সাহস ও দৃঢ়তা না থাকলে হয়তো পরিবারটিকে বাঁচানো যেত না।’

উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তারা সুস্থ হয়ে উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে যান। সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

×