ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাঁচ বছরে ইউক্রেন যুদ্ধ

অনড় রাশিয়ায় বৈশ্বিক ভারসাম্যে বদল, নিরাপত্তায় ভাঙন

৩ লাখ ২৫ হাজার রুশ সেনা নিহত, ইউক্রেনে হতাহত ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ

অনড় রাশিয়ায় বৈশ্বিক ভারসাম্যে বদল, নিরাপত্তায় ভাঙন
×

ছবি : সংগৃহীত

আবদুস সামাদ আজাদ

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০২:১৩

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পাঁচ বছরে পা দিয়েছে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করেন। মাঝখানে চার বছরের যুদ্ধ রূপ নিয়েছে বৈশ্বিক সংঘাতে। ভেঙে দিয়েছে বৈশ্বিক নিরাপত্তাও। যুদ্ধের প্রকৃতি ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে এনেছে বদল। বিশ্বনেতারা আগ্রাসী মনোভাবের কারণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কড়া সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র আধিপত্যের বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চীন ক্রমাগত রাশিয়াকে সহায়তা করছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান বলেছেন, ইউক্রেনের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার পদ্ধতিগত আক্রমণ আন্তর্জাতিক অপরাধের সমান হতে পারে। রাশিয়া আগের মতোই অনড় অবস্থান ব্যক্ত করে বলেছে, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে মস্কো। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোমিদির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের বার্ষিকী উপলক্ষে কিয়েভের পরিস্থিতি দেখে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। যুদ্ধের বার্ষিকীতে ইউক্রেনে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যুদ্ধে তিন লাখ ২৫ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বাহিনী সম্ভবত পাঁচ থেকে ছয় লাখ হতাহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত, আহত এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত এক লাখ ৪০ হাজার জন। মূলত রাশিয়ার বেশি জনবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, লড়াই বন্ধ হওয়া দরকার। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে ব্রাসেলসে জোটের সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, রক্তপাত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ইউক্রেনের পাশে আছি। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনে ইউরোপের কোনো দ্বিধা নেই। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ রাশিয়ার ওপর চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিপ্রধান কাজা ক্যালাস মনে করেন, শান্তির পথে বাধা ইউক্রেনের সেনাবাহিনী নয়, রাশিয়ার সেনাবাহিনী।

ইউক্রেনের ২০ শতাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে রাশিয়া 
২০১৪ সালে মস্কো ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখলে নেয়। ২০২২ সালে মস্কোর বাহিনী ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের প্রায় ২৭ শতাংশ দখল করে। পরে ইউক্রেন বিশাল এলাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। রুশ বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত মোট দখলকৃত এলাকা প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে ক্রিমিয়া ছাড়াও রয়েছে পূর্বাঞ্চলের দোনবাস (দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের বড় অংশ) এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশ বিশেষ করে খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের অংশ বিশেষ। 

বিমান ও ড্রোন হামলা তিন গুণ বেড়েছে 
যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ড্রোন উৎপাদন বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযানে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বেশি। গোলাবর্ষণ, কামান এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রাথমিকভাবে সংঘাতে প্রাধান্য বিস্তার করলেও পরে ড্রোনের আধিপত্য বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এক লাখ এক হাজার ২০০টিরও বেশি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিমান এবং ড্রোন হামলা ২০২৩ সালে ছয় হাজার থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে প্রায় ১৬ হাজারে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে তা ২৯ হাজার ছাড়িয়ে যায়। রাশিয়া তাদের আক্রমণে মূলত শাহেদ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে। 

যুদ্ধ উভয় পক্ষের অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে
যুদ্ধ ইউক্রেনের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং রাশিয়াকে ব্যাপক চাপের মধ্যে ফেলেছে। বিপুল সামরিক ব্যয়ের কারণে (জিডিপির ৯ শতাংশ পর্যন্ত) রাশিয়ার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে গেছে। গত বছর মাত্র ১ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও তেল স্থাপনাগুলোতে ইউক্রেনীয় হামলার ফলে রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়া ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। রাশিয়ার আক্রমণের পরের বছরেই ইউক্রেনের অর্থনীতি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংকুচিত হয়। সিএনএন ও আলজাজিরা।

আরও পড়ুন

×