ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দেশে দেশে রমজান

ইরাকের মোসুল যেন অতীত, বর্তমানের জীবন্ত ঐতিহ্য

ইরাকের মোসুল যেন অতীত, বর্তমানের জীবন্ত ঐতিহ্য
×

শিশুদের সঙ্গে নিয়ে রমজান মাসের আগমনী বার্তা প্রচার করেন এক ব্যক্তি। ইরাকের পুরোনো শহর মোসুলে। ছবি: আলজাজিরার সৌজন্যে

আলজাজিরা

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭:১৯

পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরাকের মোসুল শহর তার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। বছরের পর বছর যুদ্ধ এবং ধ্বংসলীলার পর শহরটি এখন এমন এক রূপে সেজেছে যেখানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে স্থানীয় ঐতিহ্য, আত্মপরিচয় ও সামষ্টিক স্মৃতি।

রমজানের প্রথম রাতে মাগরিবের পরপরই পুরোনো পাড়াগুলোর অলিগলিতে ধ্বনিত হতে থাকে ‘মাজিনা ইয়া মাজিনা’। এটি ঐতিহ্যবাহী গান, যা রমজান মাসে গাওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে শিশুরা এই গান গাইতে গাইতে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। যা বহু পুরোনো রীতিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলে।

সংস্কৃতি, শিল্প ও ঐতিহ্য বিষয়ক সংস্থা ‘বাইতনা ফাউন্ডেশন’-এর সদস্য ইয়াসির গোয়ানি (৩১) বলেন, শিশুদের এই মিলনমেলা মোসুল ও ইরাকের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে। তাদের মধ্যে পবিত্র মাসটি উদযাপন ও একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা দেয়।

লণ্ঠন হাতে এক শিশু। মোসুল শহরে। ছবি: আলজাজিরা

রমজানের সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী গল্পকথক বা ‘হাকাওয়াতি’দের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। তারা বাসিন্দাদেরকে মোসুলের ঐতিহ্যবাহী নানা গল্প শোনান। এমনই এক গল্পকথক ৫২ বছর বয়সী আবীর আল-ঘানেম। তিনি বলেন, হাকাওয়াতি হলো অতীত ও বর্তমানের মধ্যে একটি যোগসূত্র। আগের দিনের রমজান মাসে মোসুলের জীবন কেমন ছিল তা গল্পগুলোর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। প্রযুক্তির এত উন্নতি সত্ত্বেও মানুষ এখনো তাদের স্মৃতিতে ফিরে যেতে পছন্দ করে।

মোসুলের বাজারগুলো, বিশেষ করে ঐতিহাসিক ‘বাব আল-সারা’ রমজান মাসে জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে। বাসিন্দারা এখানে ভিড় জমান নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। বিশেষ করে খেজুরের চাহিদা থাকে আকাশচুম্বী। 

মোসুলের একটি দোকানে জিলাপি। ছবি: আলজাজিরা

৬৫ বছর বয়সী খলিল মাহমুদ প্রায় ৪০ বছর ধরে বাব আল-সারায় খেজুর বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, রমজানে এই বাজারে খেজুরের বিক্রি বহুগুণ বেড়ে যায়। রোজাদারদের কাছে খেজুরের অনেক কদর, কারণ এটি শর্করার ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।

রমজান মাসে কিশমিশের শরবত বা ‘রেইজিন জুস’ মোসুলের আরেকটি জনপ্রিয় পানীয়। এই শরবত বিক্রেতা হোসেন মুওয়াফ্ফাক বলেন, কুর্দিস্তানের পাহাড় থেকে আসা উন্নত মানের কিশমিশ এবং তাজা পুদিনা দিয়ে এই শরবত তৈরি করা হয়। কিশমিশগুলো প্রথমে ভিজিয়ে রাখা হয়, এরপর ছেঁকে নিয়ে পিষে ফেলা হয়। বিক্রির জন্য ব্যাগে ভরার আগে আবারও ছেঁকে নেওয়া হয়। রোজা রাখার পর শক্তি ফিরে পেতে মানুষ এই শরবতের জন্য দোকানে ভিড় জমায়।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রমজানে এই শহরে মানবিক উদ্যোগগুলোও চোখে পড়ে। যেমন- অভাবী মানুষের ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া, খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে ইফতারের আয়োজন এবং সামাজিক সংহতির মূল্যবোধও প্রচার করা হয়।

আরও পড়ুন

×