ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদে বন্ধ আল-আকসা মসজিদ, জেরুজালেমে ক্ষোভ

ঈদে বন্ধ আল-আকসা মসজিদ, জেরুজালেমে ক্ষোভ
×

ছবি- গার্ডিয়ান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ | ১৭:০৭

প্রায় ছয় দশক পর বিষণ্ণ এক ঈদের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পবিত্র নগরী জেরুজালেম। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম রমজান শেষে ঈদুল ফিতরের সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদ। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সকালে শত শত মুসল্লি ওল্ড সিটির প্রবেশপথে ইসরায়েলি সেনার বাধার মুখে পড়েন। পরে সড়কেই নামাজ আদায় করেন তারা। আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করতে না পেরে তারা স্থাপনাটির যতটা সম্ভব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েন।

ইসরায়েল বলছে, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, যুদ্ধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আল-আকসা কমপ্লেক্সের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করত চায় ইসরায়েল। মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করাই ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের লক্ষ্য।

জেরুজালেমের বাসিন্দা হাজেন বুলবুল (৪৮) বলেন, 'জেরুজালেমের মুসলিমদের জন্য এটি সবচেয়ে দুঃখের দিন। শৈশব থেকে আল-আকসায় ঈদের নামাজ পড়ছি। এটি বন্ধ করে তারা উদাহরণ তৈরি করল। হয়তো এটিই শেষ নয়।'

অন্যবছর ঈদের ঠিক আগে ওল্ড সিটির গলিগুলো মানুষের ভিড়ে মুখর থাকে, কিন্তু এবার শুনশান নীরবতা। ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীদের দোকানপাট খুলতে দেওয়া হয়নি, অল্প কিছু ফার্মেসি ও খাবারের দোকান খোলা রাখার অনুমতি ছিল।

আল-আকসার খতিব ও জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইকরিমা সাবরি এক বার্তায় মুসল্লিদের বলেন, মসজিদে ঢুকতে না দিলে তারা যেন কাছাকাছি স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। তবে ওল্ড সিটির সরু গলিগুলোতে বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র ইসরায়েলি সেনার উপস্থিতি বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

আল-আকসা বন্ধের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে আরব লীগ, ওআইসি এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ এবং ‘মুসলিমদের অনুভূতির ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, উস্কানিমূলক এমন কর্মকাণ্ডের ফলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায় ইসরায়েলকেই বহন করতে হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন

×