ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রাণঘাতী হামলায় অভিযুক্ত হলে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড 

প্রাণঘাতী হামলায় অভিযুক্ত হলে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড 
×

মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনে ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৯

প্রাণঘাতী হামলা চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রেখে পার্লামেন্টে আইন পাস করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের এমন আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে ইউরোপের দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। 

দ্য গার্ডিয়ানের মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ করে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পৃথক কারাগারে রাখা হবে। তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না স্বজন। বিচারকাজ চলবে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে। ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

ইসরায়েলের কারাগারে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা অনেক ঘটলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বিরল। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে নাৎসি জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের হয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ইসরায়েলের নিরাপত্তা কমিটি বিলটি উপস্থাপন করে। এর প্রতি সবেচেয়ে বেশি সমর্থন দেখান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থি মন্ত্রিসভার সদস্য বেন গাভির।   

এ আইন প্রত্যাখ্যান করে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এর মাধ্যমে নির্বিচারে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এ ছাড়া ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা এটাকে ‘গণতান্ত্রিক নীতির অঙ্গীকারের প্রতি ইসরায়েলের’ লঙ্ঘন বলে বর্ণনা করেছে।

দুই বছর পর নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরল গাজার ৮ শিশু
ফিলিস্তিনের গাজায় ২০২৩ সালের ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিকে অপরিণত কয়েকটি শিশুকে প্রতিবেশী দেশ মিসরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই শিশুদের মধ্যে অন্তত আটজন গতকাল মঙ্গলবার মিসর থেকে নিজ পরিবারের কাছে ফিরেছে। বিবিসি জানায়, ইনকিউবেটরে থাকা ৩০ জনেরও বেশি গুরুতর অসুস্থ নবজাতকের মধ্যে ছিল এ শিশুরা। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তীব্র লড়াইয়ের সময় গাজার শিফা হাসপাতাল থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল কমপ্লেক্সটি এর আগে ইসরায়েলের বাহিনী দখল করে নেয়।

সোমবার মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় থাকা মা সুন্দুস আল-কুর্দ বলেন, তিনি ‘ভয় ও আনন্দের দোলাচলে’ ছিলেন। কারণ তিনি চিন্তিত ছিলেন, দুই বছরের বেশি সময় আলাদা থাকার পর তাঁকে অভিভাবক হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।

খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে অপেক্ষারত এবং মেয়ে বিসানের জন্য একটি গোলাপি নকশা করা পোশাক আঁকড়ে ধরে থাকা এ মা বিবিসিকে বর্ণনা করেন কীভাবে তিনি ইসরায়েলি বাহিনী শিফা হাসপাতাল দখলের পর তাঁর নবজাতককে সেখান থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, বিসানকে ইনকিউবেটর থেকে সরানো যাবে না। সুন্দুস বলেন, মেয়ের অবস্থা-পরিস্থিতি জানতে প্রায় এক বছর কেটে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে হয়তো এখনও বেঁচে আছে– এ হতাশা আর আশার দোলাচলে আমি দিন কাটাচ্ছিলাম। কয়েক মাস পর খবরে শুনলাম, শিফা থেকে নেওয়া অপরিণত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আমি তখন ছবি দেখতাম, ভাবতাম এ আমার সন্তান হতে পারে কিনা।’ এক বছর পর সুন্দুস জানতে পারেন, তাঁর মেয়ে বেঁচে আছে।

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় নিহত ৭২ হাজার ২৮৫
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ২৮৫ জনে পৌঁছেছে বলে গতকাল মঙ্গলবার ওয়াফা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। এতে আহত হয়েছেন এক লাখ ৭২ হাজার ২৮ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। এদিকে গত ১১ অক্টোবর থেকে ‘যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মধ্যেই ইসরায়েল অন্তত ৭০৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এ সময় আহত হয়েছেন এক হাজার ৯২৮ জন।

আরও পড়ুন

×