ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ 

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন 

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন 
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:৩১ | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:৪১

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত সোমবার পরিবার ও শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। ট্রাম্প দিনটি শুরু করেন হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সময় কাটিয়ে। তিনি বিশাল এক খরগোশের পোশাক পরা ব্যক্তির সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করেন এবং শিশুদের সামনে তিনি ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড়াই করেন। ট্রাম্পের এই অহঙ্কারী আচরণকে বিশ্লেষকরা ভালোভাবে নেননি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্য মূলত বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। তাঁর বর্ণনা অতিরঞ্জিত। 

গার্ডিয়ান লিখেছে, ওই অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প প্রচণ্ড ভিড়ে ঠাসা ব্রিফিং রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মার্কিন সর্বাধিনায়ক ট্রাম্প বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছেন, এখানেও বিষয়টি অপ্রকাশিত থাকেনি।   

সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে ট্রাম্প গত শুক্রবার গুলিবিদ্ধ হয়ে ভূপাতিত হওয়া এক মার্কিন বিমানসেনাকে ইরান থেকে সফলভাবে উদ্ধার করার বিষয়টি উদযাপন করেন। ওই অভিযানে জড়িত সবার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘এটা শুধু প্রতিভা নয়, এটা মেধা। এটা একটা পুরো খেলা।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট যতই কথা বলছিলেন, ততই এটা স্পষ্ট হয়ে উঠছিল– দ্বিতীয় মেয়াদের ট্রাম্প যুদ্ধের প্রেমে পড়েছেন। ইরানের ওই উদ্ধার অভিযানকে ট্রাম্প এমনভাবে বর্ণনা করেন, মনে হচ্ছিল, এটি কোনো হলিউড সিনেমার দৃশ্য। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় তিনি বলেন, আপনি যদি অভিযানটি নিয়ে কোনো সিনেমা বানাতেন, তাহলে দৃশ্যটি হতো ‘সেন্ট্রাল কাস্টিং’।  

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি ইঙ্গিত দেয়, ট্রাম্প ইরানে বেসামরিক হতাহতের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন না। বিষয়টি তিনি কখনোই উল্লেখ করেন না। এমনকি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি বাস্তবায়ন করলে তাঁর পরিণতি সম্পর্কেও তিনি সচেতন নন।

ট্রাম্পের হুমকি ছিল, ‘পুরো দেশটা (ইরান) এক রাতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে এবং সেই রাতটা হয়তো মঙ্গলবার রাতও হতে পারে।’ একজন সাংবাদিক মন্তব্য করেন, ‘বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। ট্রাম্প তাঁকে বাধা দিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কার পক্ষে? আপনি কার পক্ষে?’ নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতি ক্ষেপে যান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ব্যর্থ নিউইয়র্ক টাইমস। আপনাদের প্রচার সংখ্যা অনেক কমে গেছে।’ সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা ফেলার হুমকি যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে কিনা কিংবা এই বিষয়ে তিনি (ট্রাম্প) উদ্বিগ্ন কিনা– জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাল্টা জবাব দেন, ‘না, মোটেই না, আমি উদ্বিগ্ন নই। আশা করি, আমাকে এটা করতে হবে না।’ গার্ডিয়ান লিখেছে, নির্লজ্জ ও বেপরোয়া ট্রাম্প যেন আমেরিকান উগ্র জাতীয়তাবাদ, যুদ্ধবাজ মনোভাব এবং সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে বিশ্বের প্রচলিত সব স্থূল গতানুগতিক ধারণাগুলোকে সত্য প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন সেদিন। 

ইরানের তেল দখলের ইচ্ছার বিষয়ে করা একটি মন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প উত্তর দেন, ‘আমি সবার আগে একজন ব্যবসায়ী।’ তিনি এও ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ধর্মযুদ্ধ চালাচ্ছে। খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কযুক্ত হেগসেথ ওই উদ্ধার অভিযানকে যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থানের সঙ্গেও তুলনা করেন। 

একজন সাংবাদিক বলেন, ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইরানিদের ‘পাগল জারজ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। সমালোচকদের কী বলবেন? ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সমালোচকদের পাত্তা দিই না।’

সাংবাদিক আবার বলেন, ‘যারা বলেন এই যুদ্ধ চলতে থাকায় আপনার মানসিক স্বাস্থ্যই হয়তো পরীক্ষা করা উচিত, সেই সমালোচকদের প্রতি আপনার প্রতিক্রিয়া কী? ট্রাম্প বলেন, ‘আচ্ছা, আমি এমনটা শুনিনি। কিন্তু যদি তাই হয়, তাহলে আমার মতো আরও লোক লাগবে।’

আরও পড়ুন

×