জাতিসংঘে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বাদানুবাদ, পারমাণবিক কর্মসূচির জের
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি পর্যালোচনার সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। সোমবার নিউইয়র্কে। ছবি: এএফপি
রয়টার্স
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:৫২
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনার সম্মেলনে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে ইরান। এ নিয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়েছে।
নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় সোমবার জাতিসংঘের সদরদপ্তরে এই সম্মেলন শুরু হয়েছে। চলবে এক মাসব্যাপী। প্রথমদিনে সম্মেলনের চেয়ার এবং জাতিসংঘে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত ডো হাং ভিয়েত জানান, ইরানকে জোট নিরপেক্ষ ও অন্যান্য দেশের গ্রুপ থেকে সহ-সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। মূলত এরপরই সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্যে এমন পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। পরে ইরানের প্রতিনিধিও জবাব দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়িউ সম্মেলনে বলেন, ইরানকে এই পদে নির্বাচিত করা এনপিটির জন্য একটি ‘অপমান’। তারা দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ সংক্রান্ত অঙ্গীকারকে অবজ্ঞা করে আসছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাকে সহযোগিতা করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ক্রিস্টোফার ইয়িউ আরও বলেন, ইরানকে সহ-সভাপতি নির্বাচন করাটা চরম লজ্জাজনক। এই পদক্ষেপ সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি এক ধরনের অপমান।
সম্মেলনে ইরানের পক্ষে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় (আইএইএ) নিযুক্ত তেহরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অ্যাখ্যা দেন।
রেজা নাজাফি বলেন, একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার এবং তাদের ভাণ্ডার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করছে। সুতরাং অস্ত্র বিস্তাররোধের অঙ্গীকার কে পালন করল না করল- সেটি বিচার করা তাদের সাজে না। অন্যদের বিচার করতে তাদের এই প্রচেষ্টা অযৌক্তিক।
প্রায় দেড় মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর এখনো পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিরোধ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি চুক্তির অন্তরায় হয়ে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনিয়ত বলছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। অন্যদিকে তেহরান দাবি করে আসছে, তাদের শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারকে ওয়াশিংটন স্বীকৃতি দিক। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর শঙ্কা, এই অধিকার পেলে ইরান তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগবে।
