যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদন স্থগিতের সিদ্ধান্তে আদালতের বাধা
ছবি-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ২২:২৯ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ২২:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত আবেদন স্থগিতের নীতিকে অবৈধ ও বৈষম্যমূলক বলে রায় দিয়েছেন আদালত।
বোস্টনের মার্কিন জেলা বিচারক জুলিয়া কোবিক বৃহস্পতিবার এক রায়ে বলেন, ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য গ্রিন কার্ড ও কাজের অনুমতি পাওয়াকে কঠিন করে তুলেছে, যা আইনসম্মত নয়। তিনি এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এই রায় আসে প্রায় ২০০ অভিবাসীর করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে। ইরান, হাইতি, ভেনেজুয়েলা ও সিরিয়াসহ ২০টি দেশের নাগরিকরা অভিযোগ করেন, তাদের আশ্রয়, গ্রিন কার্ড ও কাজের অনুমতির আবেদন প্রক্রিয়া হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস (ইউএসসিআইএস) এমন একটি নীতি চালু করে, যেখানে অভিবাসীদের নাগরিকত্বের আবেদন নেতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়। এর ফলে ৩৯টি দেশের আবেদন কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।
বিচারক কোবিক তার পর্যবেক্ষণে বলেন, এই নীতি অভিবাসন এবং জাতীয়তা আইনের সেই বিধানের পরিপন্থি, যেখানে জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আশ্রয় ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদন অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে রাখা কংগ্রেসের নির্দেশনার পরিপন্থী। একই সঙ্গে গ্রিন কার্ড ও কাজের অনুমতির আবেদন স্থগিত রাখাও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করে।
রায়ে বিচারক ২২ জন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এ নীতির প্রয়োগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বাকি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে কিনা, সে বিষয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনা করতে বলেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জিম হ্যাকিং রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুধু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে কারও অভিবাসন সুবিধা সীমিত করা যায় না।
এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ওপর বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য করে আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে গ্রহণযোগ্য নয়।
- বিষয় :
- আমেরিকান
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- অভিবাসন
- ইমিগ্রেশন
- আদালত
