ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে মোদির জয়

অভিন্ন দেওয়ানি আইন সংস্কারে প্রভাব ফেলতে পারে ভোটের ফল

অভিন্ন দেওয়ানি আইন সংস্কারে প্রভাব ফেলতে পারে ভোটের ফল
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০২:০১

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি নিজের ঘরে নতুন সফলতা যোগ করেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি মমতার দুর্গ দখল করায় নরেন্দ্র মোদির সরকার আরও শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে ভারতের ১৭টি রাজ্যেই বিজেপি ও বিজেপির জোটের মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। এই অবস্থায় অভিন্ন দেওয়ানি আইন ও পরিকাঠামো নির্মাণের মতো যুগান্তকারী নীতিগুলোকে ত্বরান্বিত করতে মোদি সরকারের জন্য সহজ হয়ে গেল। রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে।

মোদির এই সাফল্য প্রমাণ করে, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া, উদারভাবে অনুদান দেওয়া এবং দেশের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার ক্ষেত্রে মোদির কৌশল কাজে লেগেছে। এমনকি যেসব অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেসব অঞ্চলেও বিজেপি শক্তিশালী হয়েছে।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দেওয়ানি আইন পরিচালনার জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে কাজ করে আসছে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন ধর্মের নাগরিকরা নিজ ধর্মের নির্দিষ্ট আইন অনুসরণ করতে পারেন, অথবা একটি ধর্মনিরপেক্ষ বিধি বেছে নিতে পারেন। জোট সরকারে বিজেপি এই নীতিটি কার্যকর করতে পারছে না। কারণ, সংবিধান পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সংসদীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের নেই। কিন্তু তারা যে রাজ্যগুলোতে ক্ষমতায় আছে, সেখানে তা করতে পারে। তাদের আরেকটি প্রধান নীতি হলো, পরিকাঠামো উন্নয়ন। রাজ্যগুলোতে এটাও এখন বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

দিল্লির সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের ফেলো রাহুল ভার্মা উল্লেখ করেছেন, বিজেপির কিছু রাজ্য ইতোমধ্যেই দেওয়ানি আইনের নিজস্ব সংস্করণ আনার চেষ্টা করেছে। দলটি দেশব্যাপী নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং একই সঙ্গে রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো অন্যান্য প্রস্তাব নিয়েও এগিয়ে যেতে পারে। এগুলোর সবই শাসক দলের পক্ষে যেতে পারে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় মোদি সরকারকে আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে জয় পেতে মোদিকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। নির্বাচনে প্রচুর সম্পদ ঢেলেছে বিজেপি। এমনকি প্রচারণার সময় মোদি ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই রাজ্যে ৮০টিরও বেশি সমাবেশ ও রোডশোতে ভাষণ দিয়েছিলেন।

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে নারী ও বেকার যুবকদের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকা সহায়তাসহ বিভিন্ন অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। ২০২০ সালে কভিড মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে মোদি সরকার ভারতের ১.৪২ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে ৮০ কোটিরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য রেশন সরবরাহ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচিটি দরিদ্র ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বাড়াতে সাহায্য করেছে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে মোদির হাতে ১৯৬০-এর দশকের পর এক অভূতপূর্ব আধিপত্য ধরা দিয়েছে। ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ২০টিতেই এখন বিজেপি জোট ক্ষমতায়। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা মোদিকে পূর্বাঞ্চলে বিরাট সক্ষমতা জোগাবে।

বিজেপি নেতা প্রবীণ খান্ডেলওয়াল মনে করেন, এই বিজয় বৃহত্তর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে ভারতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে, পরিকাঠামো সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করবে এবং জনকল্যাণমূলক পরিষেবা উন্নত করবে। এই বিজয় বিজেপিকে ধর্মভিত্তিক দেওয়ানি আইন প্রতিস্থাপনের জন্য নীতি প্রণয়নের সুযোগও দেবে।

গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নীলঞ্জন সরকার বলেন, একটি স্থিতিশীল, আদর্শগতভাবে শক্তিশালী সরকার গড়ে তুলতে পারলে বিরোধীদের অক্ষমতা আরও বেড়ে যাবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদির ক্যারিশমা ও তাঁর শক্তিশালী হিন্দুত্ববাদী কর্মসূচির সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে সমন্বয় ঘটছে, তা অপ্রতিরোধ্য প্রমাণিত হচ্ছে। রাহুল ভার্মা মনে করেন, বিজেপির একজন ক্যারিশম্যাটিক জাতীয় নেতা (মোদি) আছেন। দলটির সুস্পষ্ট আদর্শিক আখ্যানও রয়েছে। হিন্দু জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশকে একত্রিত করতে এসব বড় ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন

×