ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পুলিৎজার পুরস্কার এবার ট্রাম্পময়

পুলিৎজার পুরস্কার এবার ট্রাম্পময়
×

ছবি-রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৯:২৮

চলতি বছর সাংবাদিকতার জগতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুলিৎজার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে গত সোমবার। বিভিন্ন বিভাগে বড় সাফল্য অর্জন করেছে রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে এবারের পুলিৎজার বলতে গেলে ‘ট্রাম্পময়’! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, পারিবারিক ব্যবসা– এসবই বিচারকদের নজর কেড়েছে। 

রয়টার্স দুটি মর্যাদাপূর্ণ পুলিৎজার পুরস্কার অর্জন করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযান নিয়ে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য প্রথম পুরস্কারটি জাতীয় প্রতিবেদন শাখায় দেওয়া হয়। দ্বিতীয়টি  ‘বিট রিপোর্টিং’ বিভাগে। শিশু ও ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর এআই চ্যাটবট ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের সংস্পর্শে আনায় সামাজিক মাধ্যমের বড় প্রতিষ্ঠান মেটার ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের জন্য রয়টার্স এ পুরস্কার পেয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগে সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, কানেটিকাট মিরর, শিকাগো ট্রিবিউন, এপিসহ আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস তিনটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন ও ধনকুবের ইলন মাস্কের ব্যাপক কাটছাঁট নিয়ে প্রতিবেদন করে ওয়াশিংটন পোস্ট পাবলিক সার্ভিস বিভাগে পুলিৎজার জিতে নিয়েছে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাসহ তিনটি বিভাগে পুলিৎজার জিতেছে নিউইয়র্ক টাইমস। ট্রাম্প, তাঁর পরিবার ও ট্রাম্পের মিত্ররা কীভাবে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পুরস্কার জিতেছে নিউইয়র্ক টাইমস। মতামতধর্মী লেখার জন্য পুরস্কার জিতেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের এম গেসেন। ব্রেকিং নিউজ ফটোগ্রাফিতে পুরস্কার জিতেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রদায়ক সাহের আলঘোরা।

ব্রেকিং নিউজ রিপোর্টিং বিভাগে এ বছর পুরস্কার জিতেছেন মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের কর্মীরা। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের তিন সাংবাদিক সুশি নেইলসেন, মেগান ফ্যান মিউনি আর সারা ডিনাটালে এ বছরের বিশ্লেষণধর্মী বিভাগে পুলিৎজার জিতেছেন।

স্থানীয় সাংবাদিকতায় দুটি পুরস্কারের একটি জিতে নিয়েছে কানেটিকাট মিররের ডেভআলটিমারি ও গিনি মঙ্ক এবং প্রোপাবলিকার সোফি চউ ও হারু কোরনি। আরেকটি শিকাগো ট্রিবিউনের কর্মীদের ঝুলিতে গেছে।

ন্যাশনাল রিপোর্টিং বিভাগে পুরস্কারজয়ীদের মধ্যে রয়টার্সের কর্মীদের, বিশেষত নেড পারকার, লিন্ডা সো, পিটার ইসলার ও মাইক স্পেকটরের নাম রয়েছে। বিট রিপোর্টিং বিভাগে জয়ী ব্যক্তিদের তালিকায় রয়টার্সের জেফ হরউইজ ও এনজেন থামের নাম রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টিং বিভাগে অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) প্রদায়ক ডেক কাং, গ্রেরেনস বুরকি, বায়রন টাউ, অনিরুদ্ধ ঘোষাল ও ইয়েল গ্রাউয়ের পুলিৎজার জিতেছেন।

পুলিৎজার কমিটির প্রশাসক মার্জোরি মিলার পুরস্কার প্রদানের সময় মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ও স্বাধীন সংবাদপত্রের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এমন এক সময়ে, যখন হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে এবং খোদ প্রেসিডেন্ট সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা করছেন, তখন এই ধরনের সাহসী সাংবাদিকতা গণতন্ত্র রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন

×