ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কনসার্টের টিকিটের জন্য প্রার্থনা করা হয় যে মন্দিরে

কনসার্টের টিকিটের জন্য প্রার্থনা করা হয় যে মন্দিরে
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ১০:১৭

টোকিওর ব্যস্ততম এলাকা নিহোনবাশি - স্যুট পরা মানুষ দৌড়াচ্ছে মিটিংয়ে, কেউ আবার শপিং ব্যাগ হাতে দোকান থেকে বেরোচ্ছে, আর এত উঁচু দালান যে মাঝে মাঝে মনে হয় রোদের আলোই ঠিকমতো নিচে পৌঁছাতে পারে না। তবে এই ব্যস্ততম এলাকাতেই আছে এক অদ্ভুত জায়গা- ফুকুতোকু মন্দির। অনেকেই বিশ্বাস করে, এই মন্দির নাকি ভক্তদের এনে দেয় তাদের প্রিয় গায়ক বা ব্যান্ডকে একেবারে সামনে থেকে দেখার সুযোগ।

এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এই শিন্তো মন্দিরে ঢুকলেই নিহোনবাশি শহরের কোলাহল যেন মিলিয়ে যায়। লাল টোরি গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চারপাশে এক শান্ত পরিবেশ, যেন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।

ঐতিহাসিকভাবে, এই মন্দির উৎসর্গ করা হয়েছে ইনারি দেবতাকে, যিনি সমৃদ্ধি ও ফসলের দেবতা হিসেবে পরিচিত। ১৬শ শতকে জাপানের প্রভাবশালী সামুরাই টোকুগাওয়া ইয়েয়াসু এই মন্দিরে আসেন এবং এতটাই মুগ্ধ হন যে এর পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করেন। তার সময় থেকেই এখানে লটারি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়, যা মন্দিরটিকে ভাগ্য ও সৌভাগ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এখানে আসতে শুরু করে নানা কামনায়-বিশেষ করে লটারি জেতার আশায়। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকে জাপানের পপ সংস্কৃতির প্রসারের পর মন্দিরটি নতুন পরিচিতি পায়। জে-পপ ভক্তরা এখন এখানে আসেন এক ভিন্ন কারণে-কনসার্টের টিকিট পাওয়ার আশায়।

জাপানে বড় বড় কনসার্টগুলোর টিকিট সাধারণত লটারির মাধ্যমে দেওয়া হয়। ফলে হাজারো ভক্তের মধ্যে সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অনেকেই মনে করেন, ফুকুতোকু মন্দিরে প্রার্থনা করলে ভাগ্য একটু হলেও সহায় হতে পারে।

মন্দিরে এসে ভক্তরা প্রথমে শুদ্ধিকরণ রীতি পালন করেন, তারপর দেবতার সামনে প্রার্থনা করেন। অনেকে ছোট কাঠের ফলক-এমা-কিনে সেখানে নিজেদের ইচ্ছা লিখে ঝুলিয়ে রাখেন। সেই ইচ্ছাগুলোর বেশিরভাগই একটাই - “প্রিয় শিল্পীর কনসার্টে যাওয়ার সুযোগ যেন পাই!”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুই বস্তুগত কিছু চাওয়ার বিষয় নয়। বরং এই প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ মানসিক শান্তি ও আশা খুঁজে পায়, যা তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আজকের দিনে, ফুকুতোকু মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়-এটি হয়ে উঠেছে স্বপ্ন আর ভক্তির মিলনস্থল, যেখানে বিশ্বাস আর সংগীত এক অদ্ভুত বন্ধনে জড়িয়ে আছে।

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

×