নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী সুজিত বসু
সুজিত বসু। ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ১৮:১৭
পৌরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। পৌরসভায় একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।
সোমবার ভারতের বিশেষ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ইডির (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) দপ্তরে টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর আসনে বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পরপরই গ্রেপ্তার হলেন তিনি।
ইডি সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে দ্বিতীয় দফায় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে হাজিরা দেন সুজিত বসু। সেখানে বয়ানে অসংগতির কারণে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনি পদ্ধতি শেষে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার রাতে শারীরিক পরীক্ষার পর আগামীকাল তাকে তোলা হতে পারে ইডির বিশেষ আদালতে।
অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ ছিল সাবেক দমকলমন্ত্রী ও দক্ষিণ দমদম পৌরসভার সাবেক উপ-পৌরপ্রধান সুজিত বসুর বিরুদ্ধে। সেই মামলার তদন্তের স্বার্থে গত ৬ এপ্রিল, ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকে শুরু করে বিধানসভা ভোটপর্বের মধ্যে একাধিকবার ইডির তরফে হাজিরার নোটিস পান প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। পাঁচবার হাজিরা এড়িয়ে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বলে সময় চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।
ভোটপর্ব শেষ হতেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই ইডির তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন সুজিত বসু। সে সময় অবশ্য দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আজ সকালে দ্বিতীয় দফায় ইডির দপ্তরে হাজিরা দেন তিনি। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩৩৯ জনের কাছে অর্থ ও জমির বিনিময়ে পৌরসভার চাকরি বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ১৭টির বেশি পৌরসভায় দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত করছে তদন্তকারী সংস্থা ইডি।
ইডি সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেপ্তার হওয়া অয়ন শীল নামে এক ব্যক্তির অফিসে সিবিআইয়ের তল্লাশিতে বেশ কিছু ওএমআর (OMR) শিট উদ্ধার হয়। সেই সূত্র ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পরিচালিত ১৭টির বেশি পৌরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির বিশাল নেটওয়ার্ক সামনে আসে। তদন্তের একপর্যায়ে সুজিত বসুর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে ইডি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছিল।
এ ঘটনায় সুজিত বসুর সঙ্গে তার ছেলেকেও অভিযুক্ত করা হয়। যদিও তার ছেলেকে এদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয় ইডি।
একই মামলায় অভিযুক্ত রয়েছেন রাজ্যের আরেক সাবেক মন্ত্রী রথীন ঘোষ। যদিও তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের চিফ হুইপ পার্থ চট্টোপাধ্যায়সহ মমতার দলের অন্তত এক ডজন নেতা ও মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
- বিষয় :
- দুর্নীতি
- পশ্চিমবঙ্গ
- মন্ত্রী
- ভারত
