যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি
হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়াবে যুদ্ধ, হুমকি তেহরানের
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ | ০৪:৪৩
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আবার হামলা চালালে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর কথিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ স্থগিত করার ছয় সপ্তাহ পরও শান্তি আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবও মেনে নেয়নি ওয়াশিংটন। তারা এটাকে আগের শর্তগুলোর পুনরাবৃত্তি বলে বর্ণনা করেছে।
বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন প্রস্তাবে ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ অবমুক্ত ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, তিনি নতুন করে ইরানে বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু কূটনীতির জন্য তিনি আরও সময় দিতে চান।
ইরান বরাবর বলে আসছে, যে কোনো নতুন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে হামলা চালাবে। তবে বুধবারই প্রথম দেশটি আরও দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাতের ইঙ্গিত দিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ এবার এ অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে।
এ উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত আছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি তেহরানে পৌঁছেছেন।
আরব নিউজ জানায়, সেখানে তিনি আইআরজিসির প্রধান জেনারেল আহমাদ ভাহিদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
হরমুজ প্রণালিতে সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ জাহাজের চলাচল
বুধবার ৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে চীনের দুটি বিশাল ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি ছেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে যখন ট্রাম্প একটি শীর্ষ সম্মেলনের জন্য বেইজিংয়ে ছিলেন, তখন ইরান ঘোষণা করে– তারা চীনের জাহাজের জন্য নিয়ম শিথিল করার একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
এদিন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন বলেন, একটি কোরীয় ট্যাঙ্কার ইরানের সহযোগিতায় প্রণালি অতিক্রম করছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা লয়েডস লিস্ট জানায়, গত সপ্তাহে অন্তত ৫৪টি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করে, যা তার আগের সপ্তাহের সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১৪০টি জাহাজ প্রণালিতে চলাচল করত। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারত তেলবোঝাই করার জন্য প্রণালি দিয়ে উপসাগরে খালি ট্যাঙ্কার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ শেষ করার চাপ বাড়ছে
ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার জন্য চাপের মধ্যে আছেন। আগামী নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচনের আগে জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম তাঁর রিপাবলিকান পার্টির ক্ষতি করছে। এ ছাড়া ট্রাম্পের বিভিন্ন পরস্পরবিরোধি বক্তব্যও গোলমেলে পরিস্থিতি তৈরি করছে। গত মঙ্গলবার যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার কাছাকাছি চলে এসেছিলেন বললেও পরে তিনি বলেন, আলোচনা ভালোভাবে চলছে। যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হয়ে যাবে। গত মাসে শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা বেশ ভালো অবস্থানে আছি।’
জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা
যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের বাজারেও। তেলের দাম প্রতিদিনই ওঠানামা করছে। তবে একটি বিষয় নিয়মিত ঘটছে। সেটি হলো, প্রতি সপ্তাহের শেষ দিকে বেড়ে যাচ্ছে জ্বালানির দাম। বুধবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৮ ডলারে নেমে আসে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- ইরান
