‘এটি আপনাদের দেশ নয়’, ইরানকে লেবাননের প্রেসিডেন্টের তিরস্কার
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
সিএনএন
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ২০:৩৯ | আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ | ২১:১০
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে লেবাননকে ইরান দর-কষাকষির ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। এমন অভিযোগ তুলেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তেহরানের শাসকদের তিরস্কার ও আইআরজিসির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘এটি আপনাদের দেশ নয়’।
শুক্রবার বৈরুতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সিএনএনকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় আউন লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তেহরানের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, লেবাননের জনগণ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে বিরক্ত।

ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহকে লেবাননের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র (স্টেট উইদিন স্টেট) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাক্ষাৎকারে ইরানকে উদ্দেশ্য করে আউন বলেন, ‘আপনারা আমাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছেন না। আপনাদের স্বার্থের জন্য লেবাননের মানুষ মূল্য দিচ্ছে। আমাদের স্বার্থ, আপনাদের স্বার্থের সঙ্গে মেলে না।’
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেবাননের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি আপনাদের দেশ নয়। এটি আমাদের দেশ।’
একটি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত বুধবার ইসরায়েল ও লেবানন একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। তবে এটি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে হামলা বন্ধের ওপর। আউন বলেন, এই চুক্তিটি স্থায়ী শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যম হতে পারে।
হিজবুল্লাহ এই চুক্তির অংশ নয়। তাই বুধবারই তারা চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের দাবি, এটি দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।
আউনের নেতৃত্বে লেবাননের সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু এ কাজে তারা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ। আশির দশকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইরানের সমর্থন ও প্রশিক্ষণে হিজবুল্লাহ গঠিত হয়। পরে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ সমর্থন পেয়ে সংগঠনটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ছবি দেখিয়ে আউন বলেন, ইসরায়েলি হামলায় বহু পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই মানুষগুলো লেবাননের সাধারণ নাগরিক। তারা নাঈম কাসেমের (হিজবুল্লাহর নেতা) লোক নয়। নাঈম কাসেমও লেবাননের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না।
১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরায়েল প্রতিবেশী লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় আছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের সূত্রপাত হয় গত মার্চ মাসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ তেলআবিবে রকেট ছোড়ে।
এরপর হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে লেবাননে আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে গত তিন মাসে সাড়ে তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লেবাননের জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিশাল এলাকা দখল করে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করেছে। সম্প্রতি তারা দখল করেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গ।
আরও পড়ুন: দেশ নির্মম ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে: লেবাননের প্রেসিডেন্ট
- বিষয় :
- লেবানন
- ইরান
- হিজবুল্লাহ
- ইসরায়েল
- মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত
