ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস

বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস
×

তৃণমূল কংগ্রেস

শুভজিৎ পুততুন্ড, কলকাতা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ২১:২৮

বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও চরম ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। রোববার রাত ও সোমবার দুপুরে দফায় দফায় বৈঠকের পর তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের সই করা চিঠি জমা পড়ল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে। 

সোমবার দুপুরে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবিরে যোগদানের সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেন।

অর্থাৎ, দল ছাড়ছেন না তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা। বরং দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যদের সমর্থন নিয়ে দলের রাশই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে কেড়ে নিচ্ছেন তাঁরা। আইনি কৌশল মেনে এই সংসদ সদস্যদরা এখনই তৃণমূল ছেড়ে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না, বরং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো লোকসভার ভেতরেই তাঁরা তৈরি করবেন সম্পূর্ণ আলাদা একটি গোষ্ঠী। আইন মেনে স্পিকারের স্বীকৃতি মিললে এবার লোকসভায় 'আসল তৃণমূল' হতে চলেছেন এই বিদ্রোহীরা। ফলে লোকসভার দলনেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর থাকছেন না। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে দলের প্রতীক "জোড়াফুল"-ও মমতার হাতে থাকছে না। প্রতীকের দাবিদারও হতে চলেছেন 'বিদ্রোহী'রা।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আপাতত ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সংসদ সদস্যদের সই করা চিঠি জমা পড়েছে। সংসদ সদস্যরা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, বিধানসভার পর লোকসভার রাশও 'আসল তৃণমূল'-এর হাতে। শোনা যাচ্ছে, 'বিদ্রোহী' সংসদ সদস্যদের সংখ্যা ২১-এ পৌঁছতে পারে।

রোববার দিল্লিতে তৃণমূলের অন্তত ২১ জন 'বিদ্রোহী' সংসদ সদস্য গোপন বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া-সহ আরও ২০ জন। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। কার্যতই তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এদিনই বঙ্গ রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিতে চলেছে।

সেই জল্পনাই সত্যি করে সোমবার দুপুরে ৯, মতিলাল নেহরু মার্গে বিজেপি সংসদ সদস্য ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে তৃণমূলের এক ডজনেরও বেশি বিদ্রোহী সংসদ সদস্য মিটিং করেন। 

সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে চিঠি জমা দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। 

চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই ২০ জন সংসদ সদস্য তৃণমূলের সঙ্গে থাকতে চান না। তাঁরা এনডিএ-তে যোগ দিতে চান। স্পিকারের কাছে তাঁরা আর্জি জানিয়েছেন, তাঁদের যেন এনডিএ-র সঙ্গে বসার ব্যবস্থা করা হয়।

অর্থাৎ, পরিষদীয় দলের মতোই নাটকীয়ভাবে ভেঙে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল। বিদ্রোহীরা মুখ্য সচেতক হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে চাইছেন।

সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তৃণমূল সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়ের বাড়িতে আরও একবার ২০ জন সংসদ সদস্য বৈঠকে বসতে পারেন। তারপর তাঁরা পরবর্তী কর্মসূচি জানাবেন। সংসদ সদস্য শর্মিলা সরকার বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। আমরা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জনের একটি ব্লক এনডিএ শরিক হচ্ছি। শতাব্দী রায় আমাদের ডেপুটি লিডার।"

বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ সদস্যদের এমন ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইন্ডিয়া জোটে যোগ দিয়ে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে অবস্থান করছেন। বৈঠকের মাঝেই মমতার চূড়ান্ত অস্বস্তি বাড়ল। পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে থাকলেন ইন্ডিয়া শিবিরে, কিন্তু তাঁর গোটা দলটাই চলে গেল এনডিএ শিবিরের দখলে। বিজেপি সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে তৃণমূল সংসদ সদস্যদের ৯০%-এর বেশি বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।

আরও পড়ুন

×