ঢাকা বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মমতা ও অভিষেকের দলীয় কার্যালয়ে সিআইডির অভিযান

মমতা ও অভিষেকের দলীয় কার্যালয়ে সিআইডির অভিযান
×

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ২২:২০ | আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ | ২২:২১

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন-সংক্রান্ত চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বাধার মুখে পড়লেও সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে লগবুকের খোঁজে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালান সিআইডি কর্মকর্তারা। 

স্বাক্ষর জালিয়াতি কাণ্ডে ইতোমধ্যে বিধানসভার অভ্যন্তরে ভেঙে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বিধানসভায় ‘নতুন তৃণমূল’ নামে নতুন একটি দলও তৈরি হয়েছে। 

অভিযানের বিষয়ে সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা সই কাণ্ডে একটি নোটিশ দিয়েছিলেন। তার জবাবি চিঠিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তৃণমূলের মূল কার্যালয়ে বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই বয়ানের ভিত্তিতে কালীঘাটে তৃণমূলের সেন্ট্রাল পার্টি অফিসে তল্লাশি চালাতে এসেছেন তাঁরা।  

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ৩টা নাগাদ ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট অর্থাৎ তৃণমূলের সেন্ট্রাল পার্টি অফিসে পৌঁছান সিআইডি কর্মকর্তারা। মহিলা টিম ঘিরে ফেলেন কার্যালয়ের গেট। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার বিশাল পুলিশ টিম ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। 

প্রধান কার্যালয়ে সিআইডিকে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। গেটের সামনে দীর্ঘক্ষণ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তৃণমূল নেতা ও আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী। প্রায় এক ঘণ্টার টানাপোড়েন ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় সিআইডি। 

এ সময় সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নথি ও সার্চ ওয়ারেন্ট আছে। তদন্তে বাধা দিলে তা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁরা তল্লাশি চালান। 

অন্যদিকে, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসেও বাধার মুখে পড়েন সিআইডি অফিসাররা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অফিসের কর্মীরাও আধিকারিকদের অসহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ। আটকে দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন ঘরের দরজা। পরে সমস্ত বাধা সরিয়ে ক্যামাক স্ট্রিট অফিসের ভিতরে ঢুকতে সক্ষম হন সিআইডি আধিকারিকরা। কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিট দুই জায়গাতেই সই কাণ্ডে তল্লাশি চলে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় সোয়া ৯টা নাগাদ অভিযান শেষ করে সিআইডি। 

এর আগে, গত ১৯ মে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে ৭০ জন বিধায়কের সই করা একটি কাগজ বিধানসভায় জমা দেয় তৃণমূল। কিন্তু শপথগ্রহণের সইয়ের সঙ্গে এই কাগজের সই না মেলায় জালিয়াতির সন্দেহ হয় বিধানসভার সচিবের। এরপরই এফআইআর দায়ের ও সিআইডি তদন্ত শুরু হয়। 

এ ঘটনায় একাধিক বিধায়ককে জেরার পাশাপাশি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনবার তলব করেছিল সিআইডি। তবে তিনি তা এড়িয়ে যান। সর্বশেষ সমন অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় তাঁর হাজির হওয়ার ডেডলাইন ছিল।  

আরও পড়ুন

×