ভারতের পর এবার চীনে গেলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট
বিমানবন্দরে মিন অং হ্লাইংকে স্বাগত জানান চীনা কর্মকর্তারা। সোমবার বেইজিংয়ে। ছবি: এএফপি
এএফপি
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ১৮:৩০
ভারতে আলোচিত সফরের পর এবার চীনে গেছেন মিয়ানমারের সাবেক জান্তা প্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। সেখানে তিনি চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দুই সপ্তাহ আগে তিনি বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে।
বেইজিংয়ের সমর্থনে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার পর মিন অংয়ের এটি প্রথম চীন সফর। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাইছেন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিশ্বমঞ্চে মিয়ানমার যখন কূটনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ে, তখন চীনই দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছিল।
বর্তমানে গৃহযুদ্ধ চলা মিয়ানমারে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে তারা কখনো সামরিক জান্তা, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আবার কখনো উভয়পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
সোমবার বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর মিন অংকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই সফরের আগে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের প্রত্যাশা মিয়ানমারের বেসামরিক প্রেসিডেন্টের এই সফরে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে।
সফরে শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি মিন অং হ্লাইং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা অনলাইন স্ক্যাম সেন্টার বা প্রতারণা চক্রের কারণে সম্প্রতি বেইজিং ও নেপিডোর সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। এই চক্রগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতির কাজে চীনা নাগরিকদের ব্যবহার করে বলে অভিযোগ আছে।
সম্পর্কের দূরত্ব কাটানোর পদক্ষেপ হিসেবে মিয়ানমারের পার্লামেন্টে প্রথম যে বিলটি তোলা হয় সেটি স্ক্যাম সেন্টার কেন্দ্রিক। কাউকে আটকে রেখে স্ক্যাম সেন্টারের কাজে বাধ্য করা হলে বিলটিতে সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের ভারত সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ
