ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হাতিয়ার ‘জোরপূর্বক শ্রম’

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হাতিয়ার ‘জোরপূর্বক শ্রম’
×

ফাইল ছবি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০২:৫৫ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৩:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বিচারে শুল্ক আরোপ ও বাণিজ্য যুদ্ধের লাগাম টেনে দিয়েছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। এখন আগের পথ বাদ দিয়ে নতুন পন্থায় শুল্ক আরোপ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারও হয়তো ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রেরই হবে, আর আদালত এবারের শুল্ক ঠেকাতে পদক্ষেপ নিতে পারবেন না।

দ্য ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) ঘোষণা দিয়েছে, ১৯৪৭ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার ভিত্তিতে বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ওই অর্থনীতিগুলোর তালিকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশও রয়েছে। ফলে ৮০টিরও বেশি দেশ আক্রান্ত হবে। সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপ করা হতে পারে বিভিন্ন দেশের আমদানির ওপর। অভিযোগ তোলা হয়েছে, দেশগুলো পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, সে কারণেই এ পদক্ষেপ। এসব দেশের বেশির ভাগই গ্লোবাল সাউথের। এর মধ্যে অনেক উন্নত দেশ আবার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এই শুল্ক আরোপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশগুলো আরও দূরে সরে যাবে। তারা ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহী হবে। ভারতভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক দুই আইনজীবী শান্তনু সিং ও বিক্রম নায়েক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক দেশগুলোকে দ্রুত বাণিজ্য প্রসারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

তারা আরও বলেছেন, ‘ইইউ-মারকোসার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি এগুলোর উদাহরণ... যদিও তারা একই মাত্রায় বা একই মূল্যে বাণিজ্য করছে না, তারপরও নতুন বাজারে ব্যবসা শুরু করা তাদের যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বোঝার হাত থেকে রক্ষা করবে।’

আলজাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ধারা ৩০১ ব্যবহার করে মার্কিন ব্যবসার প্রতি অন্যায্য, অগ্রহণযোগ্য বা বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পারে এবং শুল্ক ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মতো বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।

বিশ্লেষকরা গোটা বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সৃষ্টির নতুন হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। মূলত শুরুতে শুল্কারোপের মধ্য দিয়ে চাপ তৈরি করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। ভারতভিত্তিক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) অজয় শ্রিবাস্তব জানান, সে চাপের হাতিয়ার এখন আর নেই, আদালত যখন ট্রাম্পের শুল্কের লাগাম টেনেছেন, তখনই তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন করে চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

তবে যেসব অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা চলছে, তাদের অনেকেই এটি মেনে নিতে চাইছে না। তারা নিজেদের মতো করে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের জিওইকোনোমিক্স সেন্টারের সহকারী পরিচালক ম্যাডেলিন চালেকির মতে, এটি আগেরবারের শুল্কের মতো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে হইচই ফেলে দেবে না। তবে এটি যদি যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে প্রয়োগ করে, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতিপথ বদলে যেতে পারে। ব্যবসাগুলো হয়তো সরবরাহ চেইন পাল্টে ফেলবে এবং আগামীতে ভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেবে।

আরও পড়ুন

×