ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর

চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর
×

প্রতীকী ছবি

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ও হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০১:৪০

কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তিতাস উপজেলার চরবাটেরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের একদল লোক নৌকাযোগে এসে চরবাটেরা গ্রামের লোকজনের ওপর হামলা চালালে দুই গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের ৩০-৩৫ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে তিতাস ও মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে তিতাস উপজেলার সুলতান মিয়া, নাছির উদ্দিন ও কবির মিয়ার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন চরের মালিকানা ও দখল নিয়ে মেঘনা উপজেলার আলীপুর ও তিতাস উপজেলার চরবাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের বিরোধ চলছে। বিরোধপূর্ণ বাটেয়ারা মৌজার ১৪ দশমিক ৭৫ একর জমি ১৯৮৯-৯০ সালে দলিলের মাধ্যমে আলীপুর গ্রামের বাসিন্দারা জেলা প্রশসানের থেকে ইজারা নেন। অন্যদিকে তিতাস উপজেলার চরবাটেরা এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, তারা ১৯৯৯-২০০০ সালে একই এলাকার ১০ দশমিক ১৪ একর জমি ইজারা নিয়েছিলেন। এ চর দখল নিয়ে বিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

চরবাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, গতকাল সোমবার সকালে বিনতপুর ও আলীপুর গ্রামের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নৌকাযোগে নদী পেরিয়ে তাদের গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় নারী ও শিশুরা আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা আশর আলীর দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি আরও ছয়টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন শাহ আলম মেম্বার, আলী আহম্মেদ, শফিক মিয়া, নুর মোহাম্মদ ও গরিব হোসেন। খবর পেয়ে তিতাস ও মেঘনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহত সুলতান মিয়া জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা প্রায় শত বছর এ চরের জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমি নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চললেও ভূমিহীন হওয়ায় তারা আদালতের রায়ে সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাদের ভাষ্য, মেঘনা উপজেলার কিছু লোক বারবার এসে ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন এবং জোর করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

মেঘনা উপজেলার বিনতপুর গ্রামের অভিযুক্ত মো. সেলেম ও মো. ছেনুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। চরবাটেরা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য শুক্কুর ভূঁইয়া জানান, মামলায় রায় পাওয়ার পর সরকার তাদের গ্রামের লোকজনকে চরটি ইজারা দেয়। দীর্ঘদিন তারা সেখানে চাষাবাদ করে আসছেন। সোমবার মেঘনার লোকজন এসে অতর্কিত হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়েছেন।

মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর লতিফ জানান, সংঘর্ষে আহত ২০ জনের মতো চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। বেশির ভাগই ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অধিকাংশদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তিতাস থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে মেঘনা থানার পুলিশও সেখানে পৌঁছায়।

মেঘনা থানার এসআই আক্তারুজ্জামান বলেন, দুই থানার পুলিশের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×