ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কায় টেলিগ্রাম সাময়িক নিষিদ্ধ করল ভারত

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কায় টেলিগ্রাম সাময়িক নিষিদ্ধ করল ভারত
×

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিট-২০২৬ পরীক্ষা বাতিলের জেরে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৪:৪৬ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৪:৪৭

গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েকদিন আগে প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির আশঙ্কায় জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার।

আগামী ২১ জুন দেশটির মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য অনুষ্ঠিতব্য ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট-আন্ডারগ্র্যাজুয়েট (নিট-ইউজি) পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়া হবে। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল করা হয়। এতে প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।

পরীক্ষা আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানিয়েছে, প্রতারণাকারী চক্রগুলো পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার জন্য সংগঠিতভাবে টেলিগ্রাম ব্যবহার করছিল। এ কারণেই টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, এটি একটি বৃহত্তর সমস্যার সাময়িক ও অকার্যকর সমাধান মাত্র।

সরকারি ঘোষণা সত্ত্বেও ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরও ভারতে অনেক ব্যবহারকারীর কাছে টেলিগ্রাম সচল ছিল। ফলে নিষেধাজ্ঞাটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

নিট-ইউজি পরীক্ষা ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হয়। গত ৩ মে দেশজুড়ে পাঁচ হাজারের বেশি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে এনটিএ পরীক্ষাটি বাতিল করে।

ঘটনাটি বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) তদন্ত করছে। এ পর্যন্ত এক ডজনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিট পরীক্ষা বাতিল এবং স্কুল সমাপনী একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার নম্বর বিতর্ককে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন।

এর আগেও ২০২৪ সালে নিট পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি এবং গ্রেস মার্কস প্রদানে অনিয়মের অভিযোগে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সে সময় অস্বাভাবিক সংখ্যক পরীক্ষার্থী উচ্চ নম্বর পাওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় আসে।

মঙ্গলবার এনটিএ জানায়, ভারতের ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের প্রবেশাধিকার সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের বার্তা সম্পাদনা (মেসেজ এডিট) সুবিধা বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, অতীতে এই সুবিধা ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের ভুয়া প্রমাণ তৈরি করা হয়েছিল।

এনটিএ আরও জানিয়েছে, ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (আইফোরসি) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে টেলিগ্রামের বিপুলসংখ্যক চ্যানেল, গ্রুপ ও বট অপসারণ করেছে, যেগুলো প্রকাশ্যে প্রতারণামূলক কার্যক্রমের প্রচার চালাচ্ছিল।

সংস্থাটির অভিযোগ, কয়েকটি চ্যানেলের পরিচালকেরা পুনঃপরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে কয়েক লাখ রুপি দাবি করছিল। তবে এনটিএ বলেছে, নিরাপদ পরীক্ষাব্যবস্থার বাইরে কোনো প্রশ্নপত্রের অস্তিত্ব নেই।

টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের কারণে সাধারণ ব্যবহারকারীদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এনটিএ। সংস্থাটি বলেছে, ব্যক্তিগত, শিক্ষামূলক, পেশাগত ও তথ্যগত প্রয়োজনে যারা টেলিগ্রাম ব্যবহার করেন, তাদের সাময়িক ভোগান্তি হবে।

তবে ভারতের ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (আইএফএফ) এই পদক্ষেপকে অস্বচ্ছ ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছে।

সংগঠনটির মতে, টেলিগ্রাম বন্ধ করা একটি প্রতিক্রিয়াশীল ও অকার্যকর পদক্ষেপ। এতে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না; বরং সাধারণ ব্যবহারকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিশেষ করে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতির শেষ সময়ে হাজারো শিক্ষার্থী টেলিগ্রামে স্টাডি গ্রুপ, প্রশ্নোত্তর ও শিক্ষাসামগ্রী ভাগাভাগির ওপর নির্ভর করেন।

আইএফএফ আরও বলেছে, শিক্ষাব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা থেকে যদি প্রশ্নফাঁস ঘটে থাকে, তাহলে শুধু টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

×